![]()
ইবি রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির অভিযোগ তুলে দলটির বিচার অবিলম্বে শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন নাহিদ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। সেখানে নাহিদ ইসলাম লেখেন, বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার ঘটনা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির সহিংস ও অমানবিক চরিত্র উন্মোচিত করেছে। জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও দলটির নেতাকর্মীদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে নাহিদ ইসলাম দেশে ও দেশের বাইরে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক প্রতিহত করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত গুম ও খুনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরুরও আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে দলটির বিচার অবিলম্বে শুরু করা উচিত। এ দাবির পাশাপাশি অতীতে সংঘটিত সহিংসতা, গুম ও খুনের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতির ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরেছেন তিনি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন ড. ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা।
এ অবস্থায় প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, তাঁদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নাহিদ ইসলামের ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টাকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগের প্রতিবাদ, আওয়ামী লীগের বিচার শুরুর দাবি এবং অতীতের গুম-খুনের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক প্রতিহত করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।