• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় > আইএমএফের সংস্কার শর্ত নিয়ে সমঝোতার আশা অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর

আইএমএফের সংস্কার শর্ত নিয়ে সমঝোতার আশা অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর

  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৪
  • ১৮

---

বাসস

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি ও সংস্কার শর্ত নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চললেও বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনার মৌলিক বিষয়গুলোতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংস্কার বাস্তবায়নের সময় ও পর্যায় নিয়ে কিছু আলোচনা থাকলেও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এই কাঠামোর মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হবে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে ব্যয়ের চাপ বেড়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে সরকারের বাড়তি ব্যয় সামলাতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির সংস্কার শর্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্থাটির সঙ্গে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকার একসঙ্গে অনেকগুলো সংস্কার বাস্তবায়নের চাপ না দিয়ে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও মূলধন জোগানের বিষয়েও বিস্তারিত জানান অর্থমন্ত্রী। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ থেকে আট বছর ব্যাংকিং খাতে প্রতিবছর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এ চাহিদা পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে পুরো চাহিদা মেটানো কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ কারণে আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, ব্যাংক নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে আগে যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে। ব্যাংকে আমানত ফিরছে এবং নিট আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আবার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেল ও গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হলে ভর্তুকির প্রয়োজন তৈরি হবে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতা করতে পারে।

এ ছাড়া অতীতের অর্থনৈতিক ঘাটতি ও চাপ কাটিয়ে ওঠার জন্য আগামী দুই থেকে তিন বছরের একটি আর্থিক সুরক্ষাবলয় তৈরিতেও বিশ্বব্যাংকের সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী বলে জানান তিনি।

রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আয়কর আদায়ে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন, জ্বালানি ব্যয় মোকাবিলা এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19408 ,   Print Date & Time: Monday, 12 October 2026, 11:13:35 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh