• হোম > অর্থনীতি > নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানির ৫৬.৫৮ শতাংশ পাঁচ দেশের দখলে

নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানির ৫৬.৫৮ শতাংশ পাঁচ দেশের দখলে

  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২১
  • ১৬

---

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন বাজারের পরিধি বাড়লেও রপ্তানির বড় অংশ এখনো কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ গেছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। এ সময়ে এসব দেশে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। তবে এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে তুরস্কের বাজার থেকে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১০২ কোটি ৫২ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ।

আলোচ্য তিন মাসে অপ্রচলিত বাজারগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির মোট পরিমাণ ছিল ১৮১ কোটি ডলার। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচ দেশের অংশ ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ, নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়লেও কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা এখনো উল্লেখযোগ্য।

শীর্ষ পাঁচ বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে জাপানে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। অপ্রচলিত বাজারে মোট পোশাক রপ্তানির ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এসেছে জাপান থেকে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ০২ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। শীর্ষ পাঁচ বাজারের মধ্যে ভারতই একমাত্র দেশ, যেখানে আলোচ্য সময়ে রপ্তানি কমেছে।

অন্যদিকে, সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুরস্কের বাজারে। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলারের। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে তুরস্কে রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়াতেও রপ্তানি বেড়েছে। দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ১২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, শীর্ষ পাঁচ বাজারে সম্মিলিত রপ্তানি বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তুরস্ক। দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ৮ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা পাঁচ বাজারে মোট রপ্তানি বৃদ্ধির প্রায় ৯০ শতাংশ। তুরস্ককে হিসাবের বাইরে রাখলে বাকি চার বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় মাত্র ১ দশমিক ০৪ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি মূলত একটি বাজারের ওপর নির্ভর করেছে।

সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবেও শীর্ষ পাঁচ বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। ওই মাসে এসব দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের ২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে তুরস্কে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। একই সময়ে জাপানে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ, যার পরিমাণ ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

তবে সেপ্টেম্বরেও ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে রপ্তানিতে সামান্য পতন হয়েছে। ভারতে রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় কমেছে শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, নতুন বাজারে রপ্তানির পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কয়েকটি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানির গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন বাজারে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, একটি বাজারের অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর না করে একাধিক দেশে রপ্তানি বাড়াতে পারলে বৈশ্বিক চাহিদার ওঠানামাজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা করা সহজ হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বাড়াতে পণ্যের বৈচিত্র্য, ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক, প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যয় এবং বাজারভিত্তিক বিপণন কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ভারতসহ যেসব বাজারে রপ্তানি কমছে, সেসব বাজারে পতনের কারণ চিহ্নিত করে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19406 ,   Print Date & Time: Monday, 12 October 2026, 11:10:22 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh