• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | বাংলাদেশ > জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত সহায়তা দেবে বাংলাদেশ সরকার

জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত সহায়তা দেবে বাংলাদেশ সরকার

  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩
  • ১৭

---

ইবি রিপোর্ট

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং দেশটির বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা জানান বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে সার উৎপাদন, অটোমোবাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও জাহাজ পুনর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাইউকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। আলোচনায় বাংলাদেশ-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি, পাট শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।

বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশে জাপানের প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাপানি বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে চায় সরকার। এজন্য বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ চলছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

মারুবেনি করপোরেশনের সিইও মাসাইউকি ওমোতো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। তিনি চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন, প্রাকৃতিক গ্যাসের কার্যকর ব্যবহার এবং সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান মারুবেনির সিইও। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত বাংলাদেশ-জাপান ইনফরমেশন টেকনোলজির (বিজেআইটি) শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী জাপানসহ আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা দিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা বিদেশে সরবরাহের (আইটি অফশোরিং) ক্ষেত্রে এ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।’

বৈঠকে জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে পরিবেশসম্মত আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি জাপানের টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা উঠে আসে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিকল্প হিসেবে ক্ষুদ্র মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি (এসএমআর) প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।

পাট শিল্পের বহুমুখীকরণে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রচলিত পণ্যের বাইরে উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য উৎপাদনে এ শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তুলা, ভিসকস ও পলিয়েস্টারের সঙ্গে পাটের আঁশ মিশিয়ে নতুন পণ্য উৎপাদন, উন্নত বীজ উদ্ভাবন এবং গবেষণা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগাতে চায় সরকার।’

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা, সিইপিএর সম্ভাব্য সুফল কাজে লাগানো এবং শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেয়। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19382 ,   Print Date & Time: Monday, 12 October 2026, 08:36:28 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh