• হোম > আন্তর্জাতিক | বিদেশ > বিশ্বের সেরা শহর নিউইয়র্ক, অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তালিকায় শীর্ষে

বিশ্বের সেরা শহর নিউইয়র্ক, অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তালিকায় শীর্ষে

  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩
  • ২০

---

ইবি রিপোর্ট

অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও সুশাসনের বিভিন্ন সূচকে বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নিউইয়র্ক সিটি। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রথম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এই শহর। তালিকার প্রথম ১০০টি অবস্থানের মধ্যে ৭৮টিতে রয়েছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার শহর। দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্সের প্যারিস।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এ সূচকে বিশ্বের এক হাজার বড় শহরের অবস্থান মূল্যায়ন করা হয়েছে। শহরগুলোর অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও সুশাসন—এই পাঁচটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে র‍্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগে সর্বোচ্চ ১০০ নম্বর পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এই সূচক তৈরির উদ্দেশ্য হলো, নির্ভরযোগ্য ও সুবিন্যস্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন শহরের তুলনা করার সুযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকার ও বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন শহরের আর্থিক ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা মূল্যায়ন করতে পারেন। তবে এ র‍্যাঙ্কিংয়ে মানবাধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এ ধরনের বিষয় হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মিউনিসিপ্যাল ইকুয়ালিটি ইনডেক্সের মতো অন্য সূচকে পাওয়া যেতে পারে।

এ বছরের সূচকে যুক্ত হয়েছে একটি ইন্টারেক্টিভ সুবিধা। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নির্ধারিত বিভাগগুলোর ভিত্তিতে নিজেদের পছন্দমতো শহরগুলোর তুলনা করতে পারবেন।

সূচকের শীর্ষে থাকা নিউইয়র্ক সিটি অর্থনীতিতে ১০০, মানবসম্পদে ৮৯ দশমিক ৫, জীবনযাত্রার মানে ৮০ দশমিক ৮, পরিবেশে ৭২ দশমিক ৮ এবং সুশাসনে ৭৫ দশমিক ৭ নম্বর পেয়েছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বার্ষিক সূচকে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে শহরটি।

নিউইয়র্ক সিটিতে ৮৫ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন। প্রতিদিন শহরটির পাঁচটি বরোর ভেতরে ও বাইরে প্রায় ১০ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। নিউইয়র্ক সিটি ট্যুরিজমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর শহরটি ভ্রমণ করেছেন ৬ কোটি ৫০ লাখ পর্যটক।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ডের লন্ডন। শহরটির জনসংখ্যা ৯১ লাখ। মানবসম্পদ বিভাগে পূর্ণ ১০০ নম্বর পেলেও অর্থনীতিতে লন্ডনের স্কোর ৮৬ দশমিক ৫।

তৃতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের প্যারিস কোনো বিভাগেই পূর্ণ ১০০ নম্বর অর্জন করতে পারেনি। এরপর চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল ও সান ফ্রান্সিসকো। ষষ্ঠ স্থানে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন। তালিকার পরবর্তী তিনটি অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন, সান হোসে এবং জাপানের টোকিও। দশম স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ।

সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে ৪৫তম অবস্থানে থাকলেও জীবনযাত্রার মানের বিভাগে পূর্ণ ১০০ নম্বর পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা। প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার জনসংখ্যার এ শহরটি সূচকের এ বিভাগে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারী একমাত্র শহর।

অন্যদিকে, হাওয়াইয়ের হনলুলু সামগ্রিক তালিকায় ১২৪তম অবস্থানে রয়েছে। তবে পরিবেশগত স্কোরে পূর্ণ নম্বর পাওয়া একমাত্র শহর এটি।

সুশাসনের সূচকে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন ও আরহুস উভয় শহরই ১০০ নম্বর পেয়েছে। শহর দুটির মধ্যে গাড়ি বা ট্রেনে যাতায়াত করতে প্রায় তিন ঘণ্টা লাগে। এ বিভাগে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড, ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চও কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তিনটি শহরের প্রত্যেকের স্কোর ৯৯ দশমিক ১।

মূল র‍্যাঙ্কিংয়ের বাইরে ভবিষ্যতে এগিয়ে আসতে পারে, এমন কয়েকটি শহরকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস। প্রতিটি অঞ্চল থেকে পাঁচটি করে শহর নিয়ে তৈরি এ তালিকায় এমন শহরগুলোকে রাখা হয়েছে, যেগুলো বর্তমান সূচকে পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব না পেলেও প্রবৃদ্ধি, সুযোগ ও সম্ভাবনার কারণে ভবিষ্যতে ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে।

এ তালিকায় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও সৌদি আরবের রিয়াদ। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনাময় শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিও, আইডাহোর বোইসি, উত্তর ক্যারোলাইনার ডারহাম এবং ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এ মূল্যায়নে যেমন বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর অবস্থান উঠে এসেছে, তেমনি ভবিষ্যতে কোন শহরগুলো উন্নতি ও সম্ভাবনার কারণে এগিয়ে যেতে পারে, সে সম্পর্কেও একটি ধারণা পাওয়া যায়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19374 ,   Print Date & Time: Monday, 12 October 2026, 08:20:12 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh