• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | বাংলাদেশ > জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯
  • ২০

---

ইবি রিপোর্ট

বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও কার্যকর করতে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়েও কাজ এগোচ্ছে। সোমবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণের শুরুতে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এ ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। এ জন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংস্থাটি এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, বিশ্বব্যাংক ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সহযোগিতা সরকারের জন্য সহায়ক হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার পরিধি কেবল বিদ্যমান তহবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি খাতের চলমান সংকটের প্রভাব মোকাবিলায়ও সংস্থাটির সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু প্রকল্পের অর্থায়ন নয়, অর্থনীতির ওপর বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায়ও সহযোগিতার সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে জ্বালানি খাতের অতিরিক্ত ব্যয় মোকাবিলায় আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চাপ সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়ে সরকার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের অংশীদারত্বের আওতায় সহযোগিতা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা তিনি জানাননি।

বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে চলমান সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার বিষয়টি সরকারের আলোচনার অংশ। জ্বালানি খাতের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় সহযোগিতার কাঠামো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান উদ্যোগগুলোর ক্ষেত্রে সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, এ উদ্যোগগুলোতে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

সরকারের প্রত্যাশা, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় সহযোগিতার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দুই পক্ষের অংশীদারত্বকে কার্যকর করার পথও তৈরি হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19372 ,   Print Date & Time: Monday, 12 October 2026, 08:20:12 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh