• হোম > দেশজুড়ে > দেশের প্রথম পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরে শুরু হলো শৃঙ্খল বিক্রিয়া

দেশের প্রথম পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরে শুরু হলো শৃঙ্খল বিক্রিয়া

  • রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫৬
  • ১৪

---

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে রিঅ্যাক্টরটি এই অবস্থায় পৌঁছায়। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এ স্বনির্ভর ও নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান। সংস্থাটির নেতৃত্বে পরিচালিত কমিশনিং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এই পর্যায়ে পৌঁছেছে রূপপুরের প্রথম ইউনিট।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতিও আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তবে এই পর্যায়ে পৌঁছানো মানেই এখনই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়া নয়। এর আগে কমিশনিংয়ের বাকি ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হবে।

ড. জায়েদুল হাসান জানিয়েছেন, রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর এর গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এই অর্জনের ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হওয়ার বা গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনের পথে একটি উল্লেখযোগ্য ধাপ অতিক্রম করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে অনুমোদিত কমিশনিং কর্মসূচি অনুসরণ করে রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স পরীক্ষা চালানো হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সিস্টেম ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

তিনি আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রস্তুতিও সম্পন্ন করতে হবে। এসব কার্যক্রম অনুমোদিত কারিগরি পদ্ধতি ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে পরিচালিত হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এনপিসিবিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রকৌশলী, অপারেশন ও কমিশনিং বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মাইলফলক অর্জন সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতাও এতে ভূমিকা রেখেছে।

দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমের পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট এখন জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জনকে তাই দেশের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পারমাণবিক প্রযুক্তির সক্ষমতা বিকাশের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর থেকে গ্রিড সিনক্রোনাইজেশন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সর্বোচ্চ নিরাপত্তামান, অনুমোদিত কারিগরি পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হবে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আগে রিঅ্যাক্টরের কার্যকারিতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করাই এখন পরবর্তী লক্ষ্য।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19362 ,   Print Date & Time: Sunday, 11 October 2026, 02:00:02 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh