![]()
ইবি রিপোর্ট
সরকার নির্ধারিত চারটি মূল্যস্তর থাকলেও দেশের বাজারে ১২টি ভিন্ন দামে ৫৩টি সিগারেট ব্র্যান্ড বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এক ব্র্যান্ড থেকে অন্য ব্র্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সিগারেটের দাম ও কর বাড়িয়ে ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ কার্যকর করতে মূল্যস্তরের কাঠামো সংস্কারের সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।
প্রতিষ্ঠানটির সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পরিচালিত এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের ৮০ জন খুচরা বিক্রেতার ওপর পরিচালিত এ জরিপের তথ্য রোববার (১১ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করে প্রজ্ঞা।
জরিপে দেখা গেছে, শুধু নিম্নস্তরেই আটটি ভিন্ন দামে সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে। এ স্তরের সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ডের মূল্য ৯০ টাকা, যা মধ্যমস্তরের ৯২ টাকার দামের কাছাকাছি। প্রজ্ঞার মতে, এ ধরনের মূল্যব্যবস্থা ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক কম দামের ব্র্যান্ড বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।
বর্তমানে সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রজ্ঞা বলেছে, প্রতিটি স্তরের দামের সঙ্গে ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দটি যুক্ত থাকায় কোম্পানিগুলো নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিভিন্ন দামে পণ্য বাজারজাত করতে পারছে। যেমন, নিম্নস্তরের ক্ষেত্রে ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব এবং মধ্যমস্তরের ক্ষেত্রে ৯২ টাকা ও তদূর্ধ্ব নির্ধারিত রয়েছে। ফলে নিম্নস্তরেই ৬৫ থেকে ৯১ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামে সিগারেট বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রজ্ঞার মতে, একইভাবে উচ্চতর মূল্যস্তরগুলোতেও বিভিন্ন দামে ব্র্যান্ড বাজারজাত করার সুযোগ রয়েছে। এতে সরকার নির্ধারিত স্তরের সংখ্যা চারটি হলেও বাস্তবে বাজারে একাধিক দামের সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে।
তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি, সিগারেটের মূল্যস্তর পর্যায়ক্রমে চারটি থেকে কমিয়ে একটিতে নিয়ে আসা। তাদের যুক্তি, বিভিন্ন দামের সুযোগ থাকলে দাম বাড়ার পরও ক্রেতারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্য ব্র্যান্ড বেছে নিতে পারেন। ফলে কর ও মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সিগারেটের ব্যবহার কমানোর প্রত্যাশিত প্রভাব সীমিত হতে পারে।
প্রজ্ঞা জানিয়েছে, বৈশ্বিক বিভিন্ন গবেষণায় একক মূল্যস্তরের মাধ্যমে দাম ও কর বাড়ানোর সুফল পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, কার্যকর মূল্যনীতি তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে সিগারেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করতে পারে এবং নতুন করে ধূমপান শুরু করার প্রবণতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
জরিপের সুপারিশে প্রতিটি মূল্যস্তরের সঙ্গে যুক্ত ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দটি বাদ দিয়ে প্রতিটি স্তরে একটি নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে মূল্যস্তরের সংখ্যা কমিয়ে একটিতে আনার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রজ্ঞার মতে, সিগারেটের মূল্যকাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হলে কর ও দাম বাড়ানোর উদ্যোগের প্রভাব আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে। তবে জরিপটি আটটি বিভাগীয় শহরের ৮০ জন খুচরা বিক্রেতার তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় এর ফলাফল দেশের সব এলাকার বাজার পরিস্থিতিকে একইভাবে তুলে ধরে কি না, তা নির্ধারণে আরও বিস্তৃত তথ্য প্রয়োজন।