• হোম > আন্তর্জাতিক | বিদেশ > মুক্তির পর ধ্রুব রাঠির দাবি, আটক নয়, অপহরণ করা হয়েছিল

মুক্তির পর ধ্রুব রাঠির দাবি, আটক নয়, অপহরণ করা হয়েছিল

  • রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৫৮
  • ২২

---

ইবি রিপোর্ট

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে মুক্তি পাওয়ার পর ঘটনাটিকে আটকের বদলে ‘অপহরণ’ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। নিজের বাড়ি থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়া, শারীরিকভাবে হেনস্তা করা এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন এই ইউটিউবার। যদিও তাঁর অভিযোগ অস্বীকার করে গুরুগ্রাম পুলিশ জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এ নিজের বাড়ি থেকে ধ্রুব রাঠিকে আটক করা হয়। পরে রাতেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছিল পুলিশ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ধ্রুব রাঠিকে তাঁর গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ধ্রুব রাঠি লেখেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল। আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। পুরো ঘটনা এখানে তুলে ধরলাম।’ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ৫ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওতে নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে বিদেশি পাসপোর্ট থাকার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নাকচ করেন ধ্রুব। এরপর তিনি পুরো ঘটনাকে ‘আটক’ নয়, ‘অপহরণ’ বলে বর্ণনা করেন।

ধ্রুব রাঠির দাবি, শনিবার তাঁর বাড়ির বাইরে প্রায় ৫০ জন লোক জড়ো হন। তাঁরা তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং ধস্তাধস্তি করে তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিক্রিয়া জানানোর আগেই এই লোকেরা আক্ষরিক অর্থেই আমাকে অপহরণ করে। আমি অপহরণ শব্দটি ব্যবহার করছি, কারণ এটি কোনো গ্রেপ্তার নয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে শোবার ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানো হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধ্রুবের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে একাধিক থানায় নেওয়ার পর গুরুগ্রামের ক্রাইম ব্রাঞ্চ কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। এ সময় আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হয়নি।

ধ্রুবের দাবি, মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁর বাড়ির বাইরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন এবং তাঁকে বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে গুরুগ্রাম পুলিশ। পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়নি। পুলিশ সব নিয়ম ও প্রটোকল অনুসরণ করেছে।

এদিকে, সিজেপি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে সাদাপোশাকে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য ধ্রুব রাঠির বাড়িতে গিয়ে তাঁকে আটক করেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধ্রুবকে আবারও আটক করা হতে পারে অথবা তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ধ্রুব রাঠি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে ভারতের ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকারের সমালোচক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

অন্যদিকে, শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে তিন হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রাজনীতিকেরাও ছিলেন। পরে রাতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের জন্তর মন্তরে যাওয়া ঠেকাতে মধ্য দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে তাঁরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে প্রতিবাদ জানান।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19339 ,   Print Date & Time: Sunday, 11 October 2026, 11:04:18 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh