![]()
ইবি রিপোর্ট
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন গার্মেন্টস শ্রমিকেরা। এমন পরিস্থিতিতে নতুন মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু করতে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে গাজীপুর তৃণমূল পর্যায়ের ঐক্যবদ্ধ গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনসমূহ। সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকারের ঘোষিত আশ্বাস অনুযায়ী গত জুন মাসের মধ্যে বোর্ড গঠন করে মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের নিজেদের ও পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে মজুরি বোর্ড গঠনে বিলম্ব শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
সংগঠনগুলোর মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পের অগ্রগতিতে শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নির্ধারণ প্রয়োজন।
আবেদনে চারটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশগ্রহণে নতুন মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু, মূল্যস্ফীতি ও শ্রমিক পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা বিবেচনায় মজুরি নির্ধারণ এবং বোর্ড গঠন থেকে নতুন মজুরি ঘোষণা পর্যন্ত সুস্পষ্ট সময়সূচি প্রকাশ।
সংগঠনগুলোর আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে অনেক শ্রমিককে দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত ওভারটাইম করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের স্বাস্থ্য, পারিবারিক জীবন ও কর্মক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মজুরি পুনর্নির্ধারণ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
নতুন মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দৈনন্দিন ব্যয় এবং পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছে তারা। তাদের প্রত্যাশা, নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হলে মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে শ্রমিকদের অনিশ্চয়তা কমবে।
আবেদনে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩৯(৬) ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিন বছর অন্তর মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে। এই যুক্তিতে সংগঠনগুলো মনে করছে, নতুন মজুরি বোর্ড গঠনে কোনো বাস্তব বা আইনি বাধা নেই। তবে আইনসংক্রান্ত এই বক্তব্য আবেদনকারীদের দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজীপুর তৃণমূল পর্যায়ের ঐক্যবদ্ধ গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনসমূহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবিগুলো বাস্তবায়নে জরুরি ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে দ্রুত বোর্ড গঠন ও নতুন মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।