• হোম > জাতীয় | প্রধানমন্ত্রী | বাংলাদেশ > বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদনের প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদনের প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৩
  • ১১

---

ইবি রিপোর্ট

মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি দেশে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গবেষকদের উদ্ভাবিত এ প্রকল্পের প্রদর্শনী দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌল্লা। এ সময় প্রকল্পের গবেষক কুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশে বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রকল্পের কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রায় ১০ বছর ধরে চলা এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (HTL) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে অগ্রগতি অর্জন করেছেন গবেষকরা। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গবেষণাগারের পরীক্ষায় বায়োক্রুড উৎপাদনের হার ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য পেয়েছেন তাঁরা।

গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। প্রস্তাবিত প্ল্যান্ট স্থাপনে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

প্রযুক্তিটি বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের আগে বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহযোগিতায় প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, পরিবেশদূষণ হ্রাস এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্পের বিকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রকল্পের সম্ভাবনা বিবেচনায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রদর্শনীতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19281 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 01:04:50 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh