• হোম > দেশজুড়ে | মতামত > ই-ক্যাবের আগামী নেতৃত্ব: প্রত্যাশা, সক্ষমতা ও পরিবর্তনের অঙ্গীকার

ই-ক্যাবের আগামী নেতৃত্ব: প্রত্যাশা, সক্ষমতা ও পরিবর্তনের অঙ্গীকার

  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫০
  • ২৭

---

জাহিদুজ্জামান সাঈদ 

 বাংলাদেশে ঘরে বসে পণ্য বিক্রি করা যায়। জেলা শহরের একজন উদ্যোক্তাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে পারেন। একজন নারী নিজের উদ্যোগে একটি ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারেন। তরুণেরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন ব্যবসার পথ তৈরি করতে পারেন। ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবসার সুযোগ বাড়িয়েছে। কিন্তু সুযোগ তৈরি হওয়া আর সেই সুযোগ কাজে লাগানোর উপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়া এক বিষয় নয়।

অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, পণ্য সরবরাহের ব্যয়, গ্রাহকের আস্থা, কর ও মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) জটিলতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব অনেক উদ্যোক্তার জন্য বাধা হয়ে উঠতে পারে। এসব সমস্যা একজন উদ্যোক্তার একার পক্ষে সমাধান করা কঠিন। প্রয়োজন কার্যকর নীতিমালা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা এবং উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রতিনিধিত্ব।

এখানেই ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—ই-ক্যাবের ভূমিকা সামনে আসে। সংগঠনটির নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তাই কেবল কে প্রেসিডেন্ট হবেন, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া দরকার, নতুন নেতৃত্ব উদ্যোক্তাদের জন্য কী করবে, কীভাবে করবে এবং তার ফলাফল কীভাবে মূল্যায়ন করা যাবে।

একটি বাণিজ্য সংগঠনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শুধু সভা করা, অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া কিংবা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করা নয়। সদস্যদের সমস্যা চিহ্নিত করা, অগ্রাধিকার নির্ধারণ, বাস্তবসম্মত সমাধান প্রস্তাব এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সদস্যদের জানানোও নেতৃত্বের দায়িত্ব।

নির্বাচন নতুন প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে। কিন্তু নির্বাচন নিজে কোনো সমস্যার সমাধান নয়। নির্বাচিত নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে তার পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং জবাবদিহির ওপর।

ই-কমার্সের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল খাতে এ বিষয়গুলো আরও জরুরি। প্রযুক্তি বদলাচ্ছে, ক্রেতার আচরণ পরিবর্তিত হচ্ছে, নতুন ব্যবসায়িক মডেল তৈরি হচ্ছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

তাই নতুন নেতৃত্বের প্রথম কাজ হওয়া উচিত সদস্যদের বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা। বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র অনলাইন বিক্রেতা, নারী উদ্যোক্তা, নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের মতামতও গুরুত্ব পেতে হবে। ই-ক্যাব যেন কেবল প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব না করে, বরং পুরো খাতের কথা বলতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা দরকার।

দরকার সমস্যার কার্যকর সমাধান:

একজন অনলাইন উদ্যোক্তার কাছে ব্যবসার প্রশ্নগুলো খুব বাস্তব। পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না, ক্রেতা সময়মতো পণ্য পাচ্ছেন কি না, সরবরাহ ও ফেরত আসা পণ্যের খরচ কত, বিক্রির অর্থ যথাসময়ে পাওয়া যাচ্ছে কি না—এসবের ওপর ব্যবসার টিকে থাকা নির্ভর করে। এসব সমস্যার সমাধান শুধু দাবি জানানোর মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্রয়োজন তথ্য সংগ্রহ, সমস্যার কারণ নির্ণয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা।

ধরা যাক, পণ্য সরবরাহের ব্যয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মুনাফা কমিয়ে দিচ্ছে। শুধু কুরিয়ার খরচ কমানোর দাবি তুললে সমস্যার পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবামূল্য, প্রত্যন্ত অঞ্চলে পণ্য পাঠানোর ব্যয়, পণ্য ফেরত আসার হার এবং ব্যবসার আকার অনুযায়ী খরচের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে হবে। এরপর তথ্যের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।

কর ও ভ্যাটের ক্ষেত্রেও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা এবং সরকারের রাজস্বের প্রয়োজন—দুটিই বিবেচনায় রাখতে হবে। ব্যবসার আকার অনুযায়ী উপযোগী ব্যবস্থা, সহজ নিয়মকানুন এবং আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

নেতৃত্বের সাফল্য তাই কতটি সভা হয়েছে বা কতটি দাবি জানানো হয়েছে, তা দিয়ে বিচার করা যথেষ্ট নয়। বরং দেখতে হবে, সেই উদ্যোগে সদস্যদের কী বাস্তব সুবিধা হয়েছে।

প্রযুক্তি হোক ব্যবসার হাতিয়ার ডিজিটাল বাণিজ্য এখন আর শুধু অনলাইনে পণ্য প্রদর্শন ও অর্ডার নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ, ডিজিটাল পরিশোধ, স্বয়ংক্রিয় গ্রাহকসেবা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রযুক্তি ব্যবসার ধরন বদলে দিচ্ছে।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে বাণিজ্য সংগঠনের কাজের ধরনও বদলাতে হবে। সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং ব্যবহারিক সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কীভাবে কম খরচে অনলাইন বিপণন করবেন, বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করে পণ্যের চাহিদা বুঝবেন কিংবা নিরাপদ লেনদেন ও ভালো গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করবেন—এসব বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে

প্রেসিডেন্টকে নিজে প্রযুক্তিবিদ হতে হবে, এমন নয়। তবে প্রযুক্তির ব্যবসায়িক গুরুত্ব বুঝতে হবে। বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা, উপযুক্ত অংশীদারত্ব তৈরি করা এবং সদস্যদের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

সফল ব্যবসায়ী মানেই সফল সংগঠক একজন সফল ব্যবসায়ীর বাজার বোঝার অভিজ্ঞতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং ঝুঁকি মোকাবিলার দক্ষতা থাকতে পারে। নেতৃত্বের জন্য এগুলো মূল্যবান গুণ। যিনি নিজের প্রতিষ্ঠান সাক্সেস্ফুলি পরিচালনা করতে পারেন তিনি ভিন্ন আকার ও স্বার্থের বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বও করতেপারেন।

একটি বাণিজ্য সংগঠনে বড় প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার চাহিদা সব সময় এক হবে না। কারও কাছে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ অগ্রাধিকার পেতে পারে। অন্য কারও কাছে ব্যবসা নিবন্ধন, অর্থায়ন কিংবা পণ্য সরবরাহের ব্যয় কমানো বেশি জরুরি হতে পারে।

এখানে নেতৃত্বের কাজ হবে ভিন্নমতকে জায়গা দেওয়া এবং সম্মিলিত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা। ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সংগঠনের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হলে স্বচ্ছতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করতে হবে।

প্রার্থীর ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা, সরকারি নীতির সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং জবাবদিহির মানসিকতা মূল্যায়ন করা দরকার। পরিচিতি, পদমর্যাদা কিংবা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ একা নেতৃত্বের যোগ্যতর বড় প্রমান নয়। এসব অভিজ্ঞতা সদস্যদের বাস্তব সুবিধায় রূপ দিতে পারছেন কি না, সেটিই আসল বিষয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি প্রয়োজন

বাংলাদেশের ডিজিটাল বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর নির্ভরশীল থাকা উচিত নয়। উপযুক্ত প্রস্তুতি থাকলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।

তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক কিংবা সমঝোতা করলেই বাজার তৈরি হয় না। প্রয়োজন মানসম্মত পণ্য, নির্ভরযোগ্য সরবরাহব্যবস্থা, নিরাপদ লেনদেন, ক্রেতার আস্থা এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা।

ই-ক্যাব সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিতে পারে। কোন পণ্য কোন বাজারে সম্ভাবনাময়, কী ধরনের মান বজায় রাখতে হবে এবং কীভাবে অর্থ পরিশোধ ও পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা যায়—এসব বিষয়ে তথ্য ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রেও সাফল্য মাপতে হবে ফলাফল দিয়ে। কতটি বৈঠক হলো, তার চেয়ে বেশি জরুরি কতজন উদ্যোক্তা নতুন বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিলেন এবং কতটি কার্যকর বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি হলো।

প্রথম ১০০ দিনেই কাজের প্রমাণ নতুন নেতৃত্বের কর্মপরিকল্পনা যাচাইয়ের জন্য দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনকে একটি প্রাথমিক সময়সীমা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রথম ৩০ দিনে সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান সমস্যাগুলোর তালিকা তৈরি করা দরকার। এতে বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা ও জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের মতামত থাকতে হবে।

পরের ৩০ দিনে অগ্রাধিকার পাওয়া সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি সেবাদাতাদের সঙ্গে আলোচনার কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। কর ও ভ্যাট, ডিজিটাল পরিশোধ, সরবরাহব্যবস্থা, প্রযুক্তি এবং ভোক্তার আস্থা নিয়ে বিষয়ভিত্তিক কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

শেষ ৪০ দিনে সদস্যদের অভিযোগ গ্রহণ ও অনুসরণের ব্যবস্থা চালু করা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা এবং নীতিগত আলোচনার অগ্রগতি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। প্রতিটি উদ্যোগের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সময়সীমা থাকা দরকার।

সদস্যদের জানতে হবে কোন কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে, কোথায় অগ্রগতি হয়েছে এবং কোন সমস্যার সমাধানে আরও সময় লাগছে। এতে নেতৃত্বের জবাবদিহি বাড়বে এবং সদস্যদের আস্থা তৈরির সুযোগ হবে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উদ্যোক্তাদের দক্ষতা, গ্রাহকের আস্থা, প্রযুক্তির ব্যবহার, নীতিগত সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা একসঙ্গে প্রয়োজন।

একটি বাণিজ্য সংগঠন একা এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। তবে বিভিন্ন পক্ষকে এক টেবিলে আনা এবং উদ্যোক্তাদের সমস্যাকে কার্যকর নীতিগত আলোচনায় পরিণত করার ক্ষেত্রে তার বড় ভূমিকা থাকতে পারে।

ই-ক্যাবের নেতৃত্ব নির্বাচনে তাই কয়েকটি প্রশ্ন সামনে রাখা দরকার। প্রার্থীর পরিকল্পনা কী? তিনি কীভাবে ক্ষুদ্র ও বড় উদ্যোক্তাদের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখবেন? সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কী অর্জন করতে চান? সংগঠনের আয়-ব্যয়, সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে কীভাবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন? সদস্যরা কীভাবে তাঁর কাজের মূল্যায়ন করতে পারবেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজের মাধ্যমে তার প্রমাণ দিতে হবে।

শেষ পর্যন্ত ই-ক্যাবের সাফল্য নির্ধারিত হবে না শুধু কে প্রেসিডেন্ট হলেন, তা দিয়ে। নির্ধারিত হবে সংগঠনটি উদ্যোক্তাদের কতটা কার্যকর প্রতিনিধিত্ব করল, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে কতটা অবদান রাখল এবং সদস্যদের জন্য কতটা বাস্তব সুযোগ তৈরি করল, তা দিয়ে।

আগামীর ই-কমার্স খাতে তাই প্রয়োজন একজন নতুন প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি নতুন নেতৃত্বের দর্শন—যেখানে ব্যক্তির পরিচিতির চেয়ে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, প্রতিশ্রুতির চেয়ে ফলাফল এবং আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে উদ্যোক্তাদের বাস্তব স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পাবে।

লেখক:

জাহিদুজ্জামান সাঈদ, প্রধান সম্পাদক, এন্টারপ্রেনার বাংলাদেশ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19279 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 01:11:07 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh