![]()
ইবি রিপোর্ট
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে আটক হয়েছেন আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শনিবার দিল্লির লোধি এস্টেট এলাকায় তাঁকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাঁর সঙ্গে আপের অন্য নেতারাও ছিলেন। আটকের আগে একটি বাস থেকে ভিডিও প্রকাশ করে এ তথ্য জানান কেজরিওয়াল।
ভিডিওতে কেজরিওয়াল বলেন, দিল্লি পুলিশ তাঁকে, আপ নেতা সঞ্জয় সিংসহ দলের অন্যান্য নেতাকে আটক করেছে। বাসে থাকা বিক্ষোভকারীদের ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে সিইসির বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিতে ‘দিল্লি চলো’ আহ্বান জানানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই কেজরিওয়ালকে আটক করা হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান এবং পরবর্তী আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
আটকের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কেজরিওয়াল বলেন, ‘এই স্বৈরাচারকে আমরা ভয় পাব না।’ তাঁর এই বক্তব্য বিক্ষোভ ঘিরে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সামনে এসেছে।
দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন।
বিক্ষোভের সময় কেজরিওয়াল ও আপের অন্য নেতাদের আটক করার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিক্ষোভকারীদের আটক এবং কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে দিল্লির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আটক করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। দিল্লিতে কেজরিওয়াল ও তাঁর দলের নেতাদের আটকের ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।
তবে কেজরিওয়াল ও অন্য নেতাদের আটকের পর তাঁদের কোথায় নেওয়া হয়েছে, কতক্ষণ আটক রাখা হবে কিংবা পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে দেওয়া মূল সংবাদে বিস্তারিত তথ্য নেই। একইভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়নি।
এ ঘটনায় মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি এবং বিক্ষোভকারীদের আটকের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। কেজরিওয়ালের বক্তব্য ও আটকের ঘটনাকে ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোচনায় রয়েছে।