• হোম > রাজনীতি > প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে নির্মম রসিকতা: হাসনাত

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে নির্মম রসিকতা: হাসনাত

  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৩
  • ১০

---

ইবি রিপোর্ট

পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লেও পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসে শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে—এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তাঁর মতে, এভাবে পরীক্ষা বাতিল করে তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে ‘নির্মম রসিকতা’ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্নফাঁসে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং পুরো ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা শনিবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সকাল ১১টায় নির্ধারিত পরীক্ষাটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর বাতিল করা হয়। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখের বেশি প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ঢাকায় প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের ব্যবস্থা ছিল।

পরীক্ষার আগের রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়, অধিদপ্তরের একটি বড় চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ওই চক্রে নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার আত্মীয়ও রয়েছেন বলে পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়। সেখানে আরও দাবি করা হয়, প্রার্থীদের সঙ্গে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল এবং রাতভর বিভিন্ন স্থানে প্রশ্ন ও উত্তর পড়ানো হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রতিক্রিয়া জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি লেখেন, ‘কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, কেউ বা ধার-দেনা করে ঢাকায় এসেছে—নিজের মেরিট দিয়ে একটা জব পাওয়ার আশায়। অথচ, গতকাল রাত থেকেই ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছিলো। আর আজ? ৩ লাখ ক্যান্ডিডেট যখন ১০০ টা পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকলো, পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৫ মিনিট আগে ঘোষণা হলো, “প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পাওয়ায় এক্সাম ক্যানসেল।” কী নির্মম রসিকতা!’

পরীক্ষা বাতিলের ফলে চাকরিপ্রার্থীদের যে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার দায় কে নেবে—এ প্রশ্নও তুলেছেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর মতে, নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে, যা জনগণের অর্থ। এ ব্যয়ের জবাবদিহি কে করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘প্রশ্নফাঁসে জড়িত আমলা, সরকারি লোক, দলীয় লোক সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে।’ পাশাপাশি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন হাসনাত। তাঁর ভাষায়, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করতে না পারলে পদত্যাগ করতে হবে।’

পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষতি, পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনের ব্যয় এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের তদন্ত—এই তিনটি বিষয়কে সামনে এনে জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তি ও চক্রের সংশ্লিষ্টতা এখনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19269 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 12:45:10 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh