![]()
ইবি রিপোর্ট
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সূচক ও লেনদেনে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ৪ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ও শরিয়াহ সূচক কমেছে। একই সময়ে বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন ও মোট লেনদেনের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
পর্যালোচনার তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এ মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ০.২৫ শতাংশ কম।
প্রধান ও শরিয়াহ সূচকে পতন
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৬.০৭ পয়েন্ট বা ১.০১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৪৭৫.৫৮ পয়েন্টে নেমেছে। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকটি ছিল ৫ হাজার ৫৩১.৬৫ পয়েন্টে।
অন্যদিকে, ডিএসইর নির্বাচিত ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক সামান্য বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সূচকটি ২.১৩ পয়েন্ট বা ০.১০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১০৫.৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে এ সূচকের অবস্থান ছিল ২ হাজার ১০৩.৫৫ পয়েন্টে।
তবে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস কমেছে ১৩.২৯ পয়েন্ট বা ১.২১ শতাংশ। সপ্তাহ শেষে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৬.৯৭ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহে এর অবস্থান ছিল ১ হাজার ১০০.২৬ পয়েন্টে।
এ ছাড়া ডিএসইর ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বাজারভিত্তিক সূচক ডিএসএমইএক্স ২৫.৮ পয়েন্ট বা ২.৫৩ শতাংশ কমে ৯৯২.৬৮ পয়েন্টে নেমেছে।
দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২১ শতাংশ
সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বিদায়ী সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৫৫৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৭০৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। সেই হিসাবে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২১.১৯ শতাংশ।
পুরো সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৭৮২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫৩০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে মোট লেনদেন কমেছে ৭৪৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮১টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ২৯০টি কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। এ ছাড়া ১৪টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল। সপ্তাহজুড়ে ২৬টি কোম্পানির কোনো শেয়ার লেনদেন হয়নি।
বাজারের এই চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সপ্তাহজুড়ে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। তবে ডিএসই-৩০ সূচকে সামান্য উত্থান ছিল। সব মিলিয়ে বিদায়ী সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে মিশ্র প্রবণতার মধ্যে বাজার মূলধন ও প্রধান সূচকে পতন ঘটেছে।