• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > ব্যাংক খাতের ক্ষতি কাটাতে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন

ব্যাংক খাতের ক্ষতি কাটাতে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন

  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০২
  • ২০

---

ইবি রিপোর্ট

ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর সরকারকে প্রতিবছর বাজেট থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা করে দিতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি ও লুটের কারণে এই ক্ষতি তৈরি হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে দুই কোটি পরিবারকে সহায়তা করা যেত, এমনকি নির্মাণ করা সম্ভব ছিল দুটি পদ্মা সেতুও।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ওয়ান ব্যাংকের আয়োজনে বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচারণা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন গভর্নর। ব্যাংক খাতের আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি দেখতে পান, খাতটির এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আমি যখন গভর্নরের দায়িত্ব নিয়েছি, তখন এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে। ব্যাংক খাতের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর সরকারকে প্রতিবছর বাজেট থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা করে দিতে হবে।’

ব্যাংক খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ বোঝাতে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সম্ভাব্য প্রাপ্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই অর্থ দিয়ে দেশের দুই কোটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া যেত। একই অর্থ দিয়ে নির্মাণ করা সম্ভব হতো দুটি পদ্মা সেতু।

গভর্নর বলেন, ‘এই টাকা সরকার দুই কোটি পরিবারকে দিতে পারত অথবা এই টাকা দিয়ে দুটি পদ্মা সেতু তৈরি করা যেত।’

ব্যাংক খাত থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেবল চুরি হিসেবে দেখতে রাজি নন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, জনগণের অর্থ লুট করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘লুটেরারা জনগণের টাকা নিয়ে গেছে। এটাকে শুধু চুরি বললে হবে না, তারা লুট করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’

গভর্নরের বক্তব্যে ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এবং তা কাটিয়ে উঠতে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ থেকে আট বছর প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ দিতে হলে এই খাতের ক্ষতি মোকাবিলায় দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি বাজেটের অর্থ ব্যয় করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচারণার আয়োজন করেছিল ওয়ান ব্যাংক। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোস্তাকুর রহমান ব্যাংক খাতের অর্থ লুটের ঘটনা, ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সম্ভাব্য সময় এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অর্থায়নের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের অর্থ ফেরত ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19251 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 12:29:54 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh