![]()
ইবি রিপোর্ট
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে আহত হয়েছেন বাংলাদেশি কৃষক সাজুল হোসেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীমান্তের ১৫২/১০-এস নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাল্টা গুলি ছোড়ার কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ সাজুল হোসেন জামালপুর গ্রামের সাবাজ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছের একটি মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নার্সারি ক্যাম্পের টহল দল তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ছররা গুলি লাগে।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, সাজুলকে হাসপাতালে আনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সকালে বিএসএফের আকস্মিক গুলিবর্ষণে এক বাংলাদেশি নাগরিক পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই বিজিবির জামালপুর বিওপির নিয়মিত টহল দল দ্রুত সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে বিজিবি পাল্টা গুলি ছোড়ে। ঘটনার পর থেকে সীমান্তে টহল ও নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রয়েছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, ঘটনার পর বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর জামালপুর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষায় বিজিবির সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।