• হোম > অর্থনীতি | ব্যাংক > ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলে ঋণ বিতরণে ধীরগতি

৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলে ঋণ বিতরণে ধীরগতি

  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৫১
  • ১৪

---

ইবি রিপোর্ট

বন্ধ কলকারখানা চালু করে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ঘোষণার চার মাস পরও ঋণ বিতরণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি নেই। তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিতরণ হলেও সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছেছে এক হাজার কোটি টাকারও কম। বন্ধ কারখানা চালুর জন্য ঋণ পেয়েছে মাত্র ৫০ কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে ঋণের শর্ত শিথিল ও সুদ কমিয়ে বিতরণ বাড়ানোর উপায় খুঁজছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত মে মাসে প্রথমে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করা হলেও পরে এর আকার বাড়িয়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ৪১ হাজার কোটি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন তহবিল থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা বিতরণের কথা। ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। এ তহবিলের আওতায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও রয়েছে। কিন্তু জ্বালানিসংকটসহ নানা সমস্যায় থাকা শিল্পকারখানাগুলো এখনো প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছে না।

ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিলের মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০ হাজার কোটি, কটেজ, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) জন্য ৫ হাজার কোটি, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ১০ হাজার কোটি এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। উত্তরবঙ্গে কৃষি কেন্দ্র গড়তেও রাখা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা।

পুনঃ অর্থায়নের ২১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে প্রিশিপমেন্ট ফাইন্যান্স ও প্যাকিং ক্রেডিটে ৭ হাজার কোটি, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে কুটির ও ক্ষুদ্র খাতে ৫ হাজার কোটি এবং হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি এবং চামড়া ও জুতা রপ্তানিতে ২ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থান, বেকারদের কর্মসংস্থান, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশবান্ধব খাতে ১ হাজার কোটি টাকা করে এবং সৃজনশীল অর্থনীতি ও স্টার্টআপের জন্য ৫০০ কোটি টাকা করে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ঋণ বিতরণ চলমান রয়েছে। গতি বাড়ানো এবং নতুন উদ্যোগের প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, কম সুদের ঋণ যথাযথ যাচাই করে যোগ্যদের দিতে হবে। শুধু বিতরণের জন্য ঋণ দিলে ব্যাংক খাতে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, ঋণের ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাপের বদলে তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বন্ধ কারখানার সম্পদ, উৎপাদন সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ ও ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন। খেলাপি হওয়াকে একমাত্র অযোগ্যতা না ধরা, ঋণ অনুমোদন সহজ করা, খেলাপিমুক্ত হতে ২ শতাংশ নগদ জমার শর্ত প্রত্যাহার এবং একই গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের খেলাপির কারণে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকিং সুবিধা বন্ধ না করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘অর্থনীতির গতি ফেরাতে হলে বন্ধ কলকারখানা চালুর বিকল্প নেই। একটা নতুন কারখানা তৈরি করতে কয়েক বছর সময় লাগে। সেই তুলনায় বন্ধ কারখানা চালু করা কম সময়সাপেক্ষ। তাই আমরা প্রণোদনা তহবিল বিতরণ বাড়াতে কিছু শর্ত শিথিলের দাবি জানিয়েছি।’

এদিকে, প্রণোদনা বিতরণে গতি আনতে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাবেক ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ১৮০ দিনের নতুন পথনকশা তৈরির বিষয়টিও বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19243 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 10:39:56 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh