![]()
ইবি রিপোর্ট
শেয়ারবাজারে সামগ্রিক সূচক ও লেনদেন কমলেও গত সপ্তাহে শেয়ারদর বৃদ্ধিতে সবার ওপরে উঠে এসেছে এপেক্স ফুডস। কোম্পানিটির ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারধারীদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব খবর প্রকাশের পর এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬৯ টাকা বা প্রায় ২৭ শতাংশ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গত সপ্তাহে এপেক্স ফুডস ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি লভ্যাংশের ঘোষণা দেয়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে আগ্রহ বাড়ে এবং দর ঊর্ধ্বমুখী হয়।
কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে এপেক্স ফুডসের মুনাফা ৮ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ৪ কোটি টাকার বেশি, যা দ্বিগুণেরও বেশি প্রবৃদ্ধি। একই সময়ে কোম্পানিটির প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভিও বেড়েছে।
গত ৪ অক্টোবর পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। ওই সভাতেই শেয়ারধারীদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন ৫ অক্টোবর দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে আর্থিক ফলাফল ও লভ্যাংশের তথ্য জানায় কোম্পানিটি। ওই দিনই এপেক্স ফুডসের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৫১ টাকা বা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যায়।
পরবর্তী দুই কার্যদিবসেও শেয়ারটির দরবৃদ্ধির ধারা বজায় ছিল। লভ্যাংশ ঘোষণার পর তিন কার্যদিবসে শেয়ারটির বাজারমূল্য বেড়েছিল ৭৯ টাকা। তবে গত বৃহস্পতিবার প্রতিটি শেয়ারের দাম ১১ টাকা কমে যায়। তারপরও সপ্তাহ শেষে ঢাকা বাজারে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় প্রথম অবস্থানে থাকে এপেক্স ফুডস।
কোম্পানিটির ভাষ্য, গত অর্থবছরে ব্যবসা থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বার্ষিক মুনাফায়। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির বিভিন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে। সেসব শেয়ারের দাম বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটির সম্পদমূল্যও বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১৯৮১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এপেক্স ফুডস একটি স্বল্পমূলধনি কোম্পানি। এ কারণে বাজারে এর শেয়ারের সংখ্যা তুলনামূলক কম। মুনাফা দ্বিগুণের বেশি হওয়ার খবর প্রকাশের পর শেয়ারটির দাম দ্রুত বেড়েছে বলে তাঁদের ধারণা।
ডিএসইর তথ্য অনুসারে, এপেক্স ফুডসের পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের মোট ৫৭ লাখ শেয়ারে কোম্পানিটির মূলধন বিভক্ত। এর মধ্যে ৩০ লাখের বেশি শেয়ার উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ঘোষণা ছাড়া তাঁদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করা যায় না। ফলে বাজারে নিয়মিত লেনদেনের জন্য রয়েছে প্রায় ২৭ লাখ শেয়ার। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, অল্পসংখ্যক শেয়ারের লেনদেনেও এ কারণে দামে বড় পরিবর্তন হতে পারে।
লেনদেনের দিক থেকেও গত সপ্তাহে এপেক্স ফুডস ডিএসইর শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে নবম স্থানে ছিল। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে ১০ কোটি টাকার সমপরিমাণ লেনদেন হয়েছে।
এদিকে, গত সপ্তাহে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির মধ্যে এপেক্স ফুডসের পরের অবস্থানগুলোতে ছিল বিডিল্যাম্পস, আজিজ পাইপস, সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স ও সোনালী আঁশ। পাঁচ কার্যদিবসে বিডিল্যাম্পসের শেয়ারদর ৩৯ টাকা বা ১৭ শতাংশ, আজিজ পাইপসের ১০ টাকা বা ১৩ শতাংশ, সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের ১১ টাকা বা সাড়ে ১২ শতাংশ এবং সোনালী আঁশের ২৭ টাকা বা সোয়া ১২ শতাংশ বেড়েছে। এ পাঁচটি কোম্পানিই মূলত স্বল্পমূলধনি।
তবে শেয়ারদর বাড়লেও সামগ্রিক বাজারে সূচক ও লেনদেন কমেছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেন ২১ শতাংশ কমে ৫৫৬ কোটি টাকায় নেমেছে। আগের সপ্তাহে এই গড় লেনদেন ছিল ৭০৬ কোটি টাকা।