![]()
ইবি রিপোর্ট
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। এর প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকার কয়েকটি প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তাঁরা। এতে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সড়কে চলাচলকারীরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে টেকনিক্যাল মোড়সংলগ্ন মিরপুর বাংলা কলেজের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন বিক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা। একই সময়ে মতিঝিল ও আসাদগেটের আড়ং মোড়েও সড়কে অবস্থান নেন অন্য পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রার্থীরা। তাঁদের অবরোধের কারণে এসব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা আগেও ঘটেছে। তাঁদের ভাষ্য, ফ্যাসিবাদের আমলেও নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হতো, আর বর্তমান সরকারের আমলেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ত্যাগের ফল কী—সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও পরিশ্রমকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করে তাঁদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান চাকরিপ্রার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের মতে, পরীক্ষায় অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীদের সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
আফজাল হোসেন নামের এক চাকরিপ্রার্থী নিজের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে শত শত কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন পরীক্ষা দিতে। এত কষ্ট করে পরীক্ষার হলে পৌঁছানোর পর জানতে পারেন, প্রশ্নফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
আফজাল হোসেন বলেন, হাজার হাজার পরীক্ষার্থী অনেক কষ্ট করে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। এখন তাঁদের এই ক্ষতির ক্ষতিপূরণ কে দেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাঁদের দাবি, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে পরীক্ষার্থীদের এমন অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়।