• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ছাড়ে ধীরগতি, শর্ত শিথিলের দাবি

২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ছাড়ে ধীরগতি, শর্ত শিথিলের দাবি

  • শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩১
  • ৯

---

ইবি রিপোর্ট

বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। ব্যাংকের দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত কাগজপত্র এবং ঋণের আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরির অভিযোগ তুলে দ্রুত ঋণ ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে ঋণের শর্ত সহজ করা এবং খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে ২ শতাংশ নগদ অর্থ জমার বিধান প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আবার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনতে প্রণোদনা কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ চেম্বার অব অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ ও মো. সরোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ নিতে গিয়ে ব্যাংক পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। আবার আবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিতেও দীর্ঘ সময় লাগছে। বিশেষ করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ঋণ অনুমোদন পিছিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

কোনো কোনো ব্যাংকে পরিচালনা পর্ষদের সভা হতে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, প্রণোদনা ঋণের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পরিচালনা পর্ষদ সভার আয়োজন করা হোক। পাশাপাশি আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সুবিধা নিতে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ রয়েছে। তবে বিভিন্ন ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে অনেকে আবেদন করতে পারছেন না। কোনো কোনো ব্যাংক আবেদন নিতে অনীহা দেখাচ্ছে এবং বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রণোদনা কর্মসূচির নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত সহায়তা পান, সে জন্য ব্যাংক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তহবিলের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য নির্ধারিত ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত ২৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনে ৭৫০ কোটি টাকা ঋণ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

গত ২৩ মে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য রাখা হয় ২০ হাজার কোটি টাকা। প্যাকেজের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার কথা বলা হয়।

তবে ঘোষণার কয়েক মাস পরও বন্ধ শিল্প চালুর জন্য নির্ধারিত তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের গতি ধীর। ব্যবসায়ীদের দাবি, ঋণের শর্ত সহজ করা এবং আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনে ফিরতে পারবে। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19208 ,   Print Date & Time: Friday, 9 October 2026, 03:21:00 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh