• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে > ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি কার্যকরের দাবি গার্মেন্টস শ্রমিকদের

ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি কার্যকরের দাবি গার্মেন্টস শ্রমিকদের

  • শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৯
  • ৫৬

---

গাজীপুর প্রতিনিধি

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ)। সংগঠনটি অবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে নতুন মজুরি ঘোষণা এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই শ্রমিকদের হাতে সেই মজুরি পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল চারটায় গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। জি-স্কপের গাজীপুর আঞ্চলিক কমিটি মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও নতুন মজুরি ঘোষণার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জি-স্কপের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক ও শ্রমিকনেতা বাচ্চু মিয়া। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির গাজীপুর আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক ফারহানা আলেয়া। সমাবেশ পরিচালনা করেন আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক শাজাহান সিরাজ। বক্তব্য দেন জি-স্কপের কেন্দ্রীয় নেতা এম. এ. সালাম ও আসাদুজ্জামান আসাদ।

বক্তারা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও বর্তমান মজুরিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিজেদের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচের পাশাপাশি বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় সামলাতে শ্রমিকদের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁদের মতে, এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জীবনধারণের উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি।

তাঁরা আরও বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্প ও রপ্তানি অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় শ্রমিকদের অবদান রয়েছে। তাই মজুরি নির্ধারণের সময় শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি প্রতিযোগিতার বিষয়গুলোর পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান এবং তাঁদের পরিবারের সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

জি-স্কপের নেতারা জানান, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য ও বৈষম্যহীন মজুরি নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি জাতীয় বেতন স্কেল, জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) জাতীয় ন্যূনতম মজুরির দাবি, দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং এশিয়ার অন্যান্য পোশাক উৎপাদনকারী দেশের মজুরি কাঠামো। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকদের জীবনযাপনের ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নির্ধারণের আহ্বান জানান তাঁরা।

সমাবেশে বক্তারা মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও নতুন মজুরি ঘোষণায় দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করেন। তাঁদের বক্তব্য, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের আর্থিক চাপ কমানোর প্রত্যাশাও পূরণ হতে দেরি হবে বলে মনে করেন তাঁরা।

সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, অবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে নতুন মজুরি ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই ঘোষিত মজুরি শ্রমিকদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অজুহাতে নতুন মজুরি কার্যকরে বিলম্ব করা উচিত নয় বলেও দাবি জানান তাঁরা।

সমাবেশে জি-স্কপভুক্ত ১৭টি সংগঠনের কেন্দ্রীয়, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আল আমিন হাওলাদার শ্রাবণ, মোর্শেদ আলম কাউছার, মো. শরিফ, মো. আজিজুল, মো. হানিফ ও মো. ফরহাদসহ অন্য নেতারা।

বক্তারা বলেন, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা শ্রমিকদের প্রতি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং তাঁদের অধিকার। এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও নতুন মজুরি কার্যকরের দাবিতে জি-স্কপের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ নিয়ে সংগঠনটির এ দাবির মূল লক্ষ্য হলো জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা। এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এবং নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে, শ্রমিকদের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি পাওয়ার দাবি কতটা বাস্তবায়িত হয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19196 ,   Print Date & Time: Friday, 9 October 2026, 02:28:34 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh