• হোম > রাজনীতি > বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ কার, প্রশ্ন সংসদীয় কমিটিতে

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ কার, প্রশ্ন সংসদীয় কমিটিতে

  • বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:১০
  • ২২

---

 

ইবি রিপোর্ট

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ, জমি কেনাবেচার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটির বৈঠকে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছে এসব বিষয়ে জানতে চান কমিটির একাধিক সদস্য।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, রাজউক নিয়ে আলোচনার সময় বসুন্ধরা এলাকার বিভিন্ন বিষয় সামনে আনেন কমিটির সদস্যরা। তাদের একজন বলেন, ওই এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে বসুন্ধরার নিজস্ব লোকজন। সেখানে জমি বেচাকেনা করতে বসুন্ধরা গ্রুপকে কমিশন দিতে হয়। এমনকি ডিশ লাইনের সংযোগ নিতেও তাদের কাছ থেকে নিতে হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়। এ পরিস্থিতিকে একটি রাষ্ট্রের ভেতর আরেকটি রাষ্ট্রের মতো হয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ওই সদস্য।

কমিটির একজন সদস্য জানতে চান, বসুন্ধরা এলাকার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে এবং সেখানে জমি কেনাবেচার অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়। জবাবে রাজউকের পক্ষ থেকে বলা হয়, কাগজে-কলমে এলাকাটি মূলত সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। তবে সেখানে এখনো সিটি করপোরেশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।

কমিটির সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক বলেন, বসুন্ধরাকে নিয়ে অনেকের অনেক অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে আলাদা রাজত্ব ও প্রশাসন গড়ে তোলা হয়েছে। হোল্ডিং কর নেওয়া, জমি বিক্রির ক্ষেত্রে কাঠাপ্রতি টাকা দেওয়া, ড্রেন নির্মাণ এবং ডিশ লাইন দেওয়ার মতো কাজেও বসুন্ধরার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় তিনি তুলে ধরেছেন।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজউকের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০০১-০৬ সালে পূর্বাচলে রাজউকের বরাদ্দ দেওয়া প্লট বাতিলের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্লট বাতিলের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে রাজউকের কাছে জানতে চায় কমিটি।

রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকায় নতুন করে কোনো প্লট বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। তবে রাজউকের জায়গায় অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রাপ্য প্লট দ্রুত নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশাপাশি অতীতে প্লট বরাদ্দে সংঘটিত অনিয়ম এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নতুন ভূমিনির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে কমিটি।

জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বৈঠকে কমিটির সদস্য হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন অংশ নেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19192 ,   Print Date & Time: Thursday, 8 October 2026, 07:43:31 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh