![]()
ইবি রিপোর্ট
গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার মধ্যে চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস-বিস) মিলনায়তনে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গার পানি বণ্টনের ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই নতুন চুক্তি করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিয়মিত কাজ করছে। বৈঠকগুলোর ভিত্তিতে তিনি আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে।
মন্ত্রী জানান, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। ১৯৯৬ সালে নতুন চুক্তিতে সেই ক্লজ রাখা হয়নি। তাই এবার গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন বিষয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ একটি কমিটি গঠন করেছে। ভারতের প্রতিনিধিদের নামও চাওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পাওয়ার পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ ও আলোচনা শুরু হবে বলে জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা চায় এবং পানিবণ্টন বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই পানি সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধান করতে হবে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ দৃশ্যমান হবে। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য বড় প্রকল্প এবং দেশের মোট অঞ্চলের তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ এর সুফল পাবে।
তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করে ২০২৭ সালে মূল কাজ শুরুর লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কারিগরি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, তিস্তার মতো বৃহদায়তন প্রকল্পের সমীক্ষা রাতারাতি শেষ করা সম্ভব নয়। অতীতে পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজ শেষ না হওয়ায় বর্তমান সরকার নিজ উদ্যোগে সমীক্ষা শেষ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে।
পদ্মা ও তিস্তা প্রকল্পে কোনো বহির্বিশ্বের চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই তার কাছে সবচেয়ে বড়। দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।