• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে > উপজেলা পর্যন্ত হবে নগর উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যান: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী

উপজেলা পর্যন্ত হবে নগর উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যান: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী

  • বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৭
  • ২৬

---

ইবি রিপোর্ট

অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন ব্যবস্থাকে পরিকল্পিত কাঠামোর মধ্যে আনতে বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার প্রয়োজন ও সম্ভাবনা বিবেচনায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য স্থাপনার ব্যবহার নির্ধারণ করে জোনিং করা হবে। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণে স্থাপত্য, কাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা সমন্বয়ের পাশাপাশি নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ এসব কথা বলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বণিক বার্তা।

মন্ত্রী জানান, আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইউডিডি) প্রথমবারের মতো ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের কাজ করা হবে। শুরুতে মেট্রোপলিটন শহরগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও পরে বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যন্ত প্রতিটি এলাকার জন্য বাস্তবভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, নগর ও আবাসন ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে এরই মধ্যে বিভিন্ন কাজ শুরু হয়েছে। স্থাপত্য, কাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক পরিকল্পনাকে সমন্বিতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ

জাকারিয়া তাহের বলেন, কোনো ভবনের নকশা অনুমোদনের পর নির্মাণকাজে সেই নকশা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ডিজাইনারদের মাধ্যমে ভবনটি অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কি না, তা প্রত্যয়নের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি জানান, রাজধানীর ধানমন্ডিসহ রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হলেও অনেক এলাকায় অনুমোদিত পরিকল্পনা ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবন চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মিত ভবন বা অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত স্থাপনার বিষয়ে নতুন বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানান মন্ত্রী।

ছয় এলাকায় নতুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

নগর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে নতুন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন জাকারিয়া তাহের। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশালে নতুন ছয়টি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে আরও চারটি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ছিল। পর্যায়ক্রমে বগুড়াসহ অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, কোনো এলাকায় ডেভেলপমেন্ট অথরিটি না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনকেই নকশা অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এসব বিষয়কে একটি সামগ্রিক আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গুলশান-বনানীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ

রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার পরিবেশ নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান গৃহায়নমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি বাড়িঘর রয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাড়িতে নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল করা হয়নি।

একইভাবে অনেক নামিদামি ডেভেলপার ভবন নির্মাণ করলেও বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা এসটিপির ব্যবস্থা করেননি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে রাজউক চেয়ারম্যান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

আবাসনে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রয়োজন

মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ওপর জোর দিয়েছেন জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজ সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশেও বৃহৎ পরিসরে আবাসন নিশ্চিত করতে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ব্যবস্থা প্রয়োজন।

বেসরকারি খাত এগিয়ে এলে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি। বেসরকারি আবাসন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা করা হয়েছে। এতে নির্ধারিত পরিকল্পনা ও শর্তের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি আগের কাজ যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তার ওপর পরবর্তী পরিকল্পনা অনুমোদনের বিষয়টি নির্ভর করবে।

ঢাকার বাসযোগ্যতা

ঢাকার বাসযোগ্যতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাসযোগ্যতার দিক থেকে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। অতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে রাজধানীকে বাসযোগ্য করা সহজ নয়। এ জন্য যথাযথ পরিকল্পনার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সঠিক পরিকল্পনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের সর্বশেষ জনশুমারি অনেক আগের হওয়ায় বর্তমান জনসংখ্যা, বসতি, আবাসন ও নগরায়ণের চিত্র জানতে নতুন করে উপযুক্ত শুমারি প্রয়োজন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও জনবান্ধব আবাসন নীতি বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ থাকবে। পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণও প্রয়োজন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19181 ,   Print Date & Time: Thursday, 8 October 2026, 03:04:22 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh