• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > স্মার্ট পরিবহন বদলে দিতে পারে ঢাকার নগরজীবন

স্মার্ট পরিবহন বদলে দিতে পারে ঢাকার নগরজীবন

  • বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪১
  • ২৩

---

ইবি রিপোর্ট

দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার এবং বাড়তে থাকা আবাসন ও পরিবহন চাহিদায় রাজধানী ঢাকা প্রতিদিন নতুন চাপের মুখে পড়ছে। যানজট, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনসেবার সীমাবদ্ধতার মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর নগর পরিকল্পনা ঢাকাকে আরও দক্ষ, নিরাপদ, টেকসই ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ‘স্মার্ট সিটি’ ধারণার আওতায় পরিবহন, আবাসন, জ্বালানি, পরিবেশ ও ডিজিটাল সেবাকে সমন্বিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

স্মার্ট নগর ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত ও পরিকল্পিত অবকাঠামোর মাধ্যমে নাগরিক সেবা পরিচালনার লক্ষ্য থাকে। ঢাকার জন্য এর মধ্যে রয়েছে স্মার্ট পরিবহন, ডিজিটাল জনসেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার, উন্নত পানি ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণ।

ঢাকার যানজট ও ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমাতে গণপরিবহন সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকা মেট্রোরেল এ ক্ষেত্রে একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। মেট্রোরেলের সঙ্গে বাস, হাঁটার পথ, সাইকেল অবকাঠামো ও অন্যান্য গণপরিবহন যুক্ত করা হলে একটি সমন্বিত যাতায়াত ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব।

ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিগন্যাল তাৎক্ষণিক যানজটের পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ করতে পারে। জিপিএস-ভিত্তিক বাস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে যাত্রীরা বাসের অবস্থান ও সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় জানতে পারবেন। একই সঙ্গে সমন্বিত ইলেকট্রনিক টিকেটিং চালু হলে বিভিন্ন পরিবহনে একটি পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহারের সুবিধা তৈরি হবে।

মানসম্মত ফুটপাত, নিরাপদ পারাপার, সাইকেল লেন ও উন্নত সড়ক নকশা স্বল্প দূরত্বে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বৈদ্যুতিক বাস ও কম নিঃসরণকারী যানবাহন বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমাতেও সহায়তা করতে পারে।

ঢাকায় জমি ও আবাসনের মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য উপযুক্ত বাসস্থান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড ও মডুলার নির্মাণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতের আবাসন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় কমানো যেতে পারে।

জ্বালানিসাশ্রয়ী আলো, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচল, ছাদে সৌর প্যানেল, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও স্মার্ট পানি ব্যবস্থাপনা আবাসনকে আরও কার্যকর করতে পারে। কর্মসংস্থান কেন্দ্র ও গণপরিবহনের কাছাকাছি সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে উঠলে যাতায়াত ব্যয় কমার পাশাপাশি স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও বাজারে মানুষের প্রবেশাধিকার সহজ হবে।

ঢাকার বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা সামলাতে স্মার্ট মিটার ও স্মার্ট গ্রিড ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো বিদ্যুৎ ব্যবহারের তাৎক্ষণিক তথ্য দিতে এবং অপচয় কমাতে সহায়তা করবে। আবাসিক ভবন, অফিস, স্কুল, কারখানা ও সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও বাড়ানো সম্ভব।

গ্রিন বিল্ডিংয়ে কম শক্তি ও পানি ব্যবহার, কম কার্বন নিঃসরণ এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিশ্চিত করার সুযোগ থাকে। রাজউকের আওতাধীন এলাকায় প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ১০ শতাংশ ভবনও গ্রিন বিল্ডিং হলে সবুজ আবাসন সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে প্রাথমিক ব্যয়, দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতা, অর্থায়নের ঘাটতি এবং বিধিমালার প্রয়োগের দুর্বলতা এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ। ছাড়, প্রণোদনা ও নিম্ন সুদের ঋণের মাধ্যমে এ খাতকে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

অনলাইনে বিল পরিশোধ, সনদ সংগ্রহ, অভিযোগ জানানো ও সরকারি তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা নাগরিকদের সরকারি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন কমাতে পারে। একই সঙ্গে সেন্সর ও জিপিএসের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ পর্যবেক্ষণ, বায়ু ও পানির গুণমান যাচাই এবং শব্দদূষণ পরিমাপ করা সম্ভব।

স্মার্ট পানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, ডিজিটাল ম্যাপিং, নিষ্কাশন পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জলাবদ্ধতার প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে।

সবশেষে ঢাকার স্মার্ট নগরী পরিকল্পনা শুধু প্রযুক্তিনির্ভর হলে চলবে না; এর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে মানুষ। সরকারি সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাশ্রয়ী, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার পথ তৈরি হতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19104 ,   Print Date & Time: Thursday, 8 October 2026, 08:33:21 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh