• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > বন্ধ কারখানা চালুতে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ চান ব্যবসায়ীরা

বন্ধ কারখানা চালুতে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ চান ব্যবসায়ীরা

  • বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৮
  • ১৪

---

ইবি রিপোর্ট

বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং নানা জটিলতার কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা সময়মতো সহায়তা পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ চেম্বার অব অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ ও মো. সরোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংকের বোর্ড সভায় দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা নীতিমালায় কোনো ঘাটতি বা অস্পষ্টতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করতেই ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকটি করা হয়।

এ সময় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, ঋণ বা সহায়তার আবেদন নিষ্পত্তিতে ব্যাংকের বোর্ড সভার কারণে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি বোর্ড সভা আয়োজন করতেই এক মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতি সপ্তাহে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ বোর্ড সভা আয়োজনের দাবি জানান তাঁরা।

পাশাপাশি ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময়ক্ষেপণ কমানোরও দাবি জানানো হয়।

৭৫০ কোটি টাকার আবেদনে বিতরণ ৫০ কোটি

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রণোদনা কর্মসূচির নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত সহায়তা পান, সে জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

একই সঙ্গে তহবিলের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দেওয়ার ক্ষেত্রেও যথাযথ যাচাই-বাছাই করার তাগিদ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এই তহবিল থেকে ঋণ পেতে ২৫ জন গ্রাহক মোট ৭৫০ কোটি টাকার আবেদন করেছেন। এর মধ্যে মাত্র তিনজন গ্রাহকের অনুকূলে ৫০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

ব্যাংকের অসহযোগিতার অভিযোগ

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম টিবিএসকে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সুবিধা নিতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হলেও বিভিন্ন ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে আবেদন করতে পারছেন না। অনেক ব্যাংক আবেদন নিতে চাচ্ছে না, আবার কেউ কেউ নানা অজুহাতে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারেও কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দ্রুত দূর করে যেসব আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ প্যাকেজ বাস্তবায়নে খুবই আন্তরিক। তারা প্যাকেজটির সফল বাস্তবায়ন চায়। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।”

দ্রুত বাস্তবায়নে সমন্বয়ের তাগিদ

ব্যবসায়ীদের দাবি, বন্ধ কারখানা ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত উৎপাদনে ফিরতে পারলে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমও সচল হবে। এজন্য আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে যাচাই, বোর্ড অনুমোদন ও ঋণ বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সময় কমানোর প্রয়োজন রয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কাছে কর্মসূচির সুবিধা পৌঁছানো এবং তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে নীতিমালার জটিলতা থাকলে তা পর্যালোচনা করে সমাধানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ২৫টি আবেদনের বিপরীতে ৭৫০ কোটি টাকা চাওয়া হলেও বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫০ কোটি টাকা। ফলে ব্যবসায়ীদের দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তির দাবির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19064 ,   Print Date & Time: Wednesday, 7 October 2026, 09:56:32 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh