![]()
ইবি স্পোর্টস ডেস্ক
বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ৮৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতি, গ্যালারিতে অশ্রুসিক্ত চোখ আর মাঠে সতীর্থদের আবেগ—সবকিছু মিলিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ মুহূর্তটি হয়ে উঠল স্মরণীয়। দুই দশকের বেশি সময় জাতীয় দলের হয়ে পথচলার পর বিদায়ের দিনে মেসিকে শেষবারের মতো দেখতে স্টেডিয়ামে ভিড় করেন সমর্থকেরা। তাকে বিদায় জানাতে রাস্তায়ও নেমে আসেন হাজারো মানুষ।
আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসির অর্জনের তালিকাও সমৃদ্ধ। জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি জিতেছেন বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। তাই তার বিদায়ের মুহূর্তে সতীর্থ, কোচ ও সমর্থকদের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে নানা ভাবে।
মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে মেসিকে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে দেখতে প্রায় ৮৫ হাজার দর্শক জড়ো হন। মাঠের বাইরে তার বিদায় ঘিরেও ছিল মানুষের উপস্থিতি। বুয়েনস আইরেসের রাস্তায় নেমে হাজারো মানুষ প্রিয় তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চেয়েছেন।
মেসির বিদায়ের মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তার সতীর্থরাও। এনজো ফার্নান্দেজ কান্নায় ভেঙে পড়েন। জাতীয় দলের অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যেও মেসিকে ঘিরে আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলা ও সাফল্যের অংশীদার হওয়ার পর অধিনায়ককে বিদায় জানানোর মুহূর্তটি তাদের জন্যও ছিল আবেগে ভরা।
কোচ লিওনেল স্কালোনিও ছিলেন আবেগাপ্লুত। মেসির বিদায়কে ঘিরে আগে থেকেই তিনি বলেছিলেন, এমন একটি রাতে কান্না আটকে রাখা কঠিন হবে। মাঠের সেই আবেগঘন পরিবেশে স্কালোনির কথার প্রতিফলনও দেখা যায়।
মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ রদ্রিগো দে পলও তার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার কথা জানান। মেসিকে শুধু অধিনায়ক হিসেবে নয়, নিজের বেড়ে ওঠার অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা থেকে মেসির প্রভাবকে এভাবেই তুলে ধরেন দে পল।
সাবেক সতীর্থ আনহেল দি মারিয়াও মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির সঙ্গে দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি এবং সাফল্যের অংশীদারিত্ব তার বিদায়ের আবেগকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
দুই দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা জিতেছেন। একই সময়ে ব্যক্তিগত পর্যায়েও গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। জাতীয় দলের হয়ে তার এই দীর্ঘ যাত্রার সমাপ্তি তাই শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় নয়; সতীর্থ, কোচ ও সমর্থকদের কাছেও এটি ছিল আবেগঘন একটি মুহূর্ত।