• হোম > আন্তর্জাতিক | বিদেশ | বিশ্ব সংবাদ > নিউট্রিনো গবেষণায় অবদানে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল ফ্রান্সিস হ্যালজেনের

নিউট্রিনো গবেষণায় অবদানে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল ফ্রান্সিস হ্যালজেনের

  • মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪০
  • ৯

---

 

ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ মেরুর বরফের গভীরে মহাবিশ্বের রহস্যময় নিউট্রিনো কণা শনাক্তের গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি পেলেন বেলজিয়ান-আমেরিকান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন। এ গবেষণার মাধ্যমে মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করে নোবেল কমিটি। কমিটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব লাইভে পুরস্কার ঘোষণার অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ফ্রান্সিস হ্যালজেনের পুরস্কারপ্রাপ্তির পেছনে রয়েছে অ্যান্টার্কটিকার বরফে গড়ে ওঠা বিশ্বের বৃহৎ নিউট্রিনো গবেষণা অবকাঠামো ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’। এই পর্যবেক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তে তার নেতৃত্ব ও অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ।

নিউট্রিনো এমন এক ধরনের অতিক্ষুদ্র কণা, যা পদার্থের সঙ্গে খুব কমই взаимодейств করে। এ কারণে কণাটিকে শনাক্ত করা দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের জন্য কঠিন একটি গবেষণাক্ষেত্র। মহাবিশ্বের বিভিন্ন উৎস থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্তের মাধ্যমে দূরবর্তী মহাজাগতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই গবেষণায় দক্ষিণ মেরুর বরফকে কাজে লাগানো হয়েছে। বরফের গভীরে স্থাপন করা সেন্সরগুলোর মাধ্যমে নিউট্রিনোর সঙ্গে পদার্থের বিরল মিথস্ক্রিয়ার ফলে তৈরি আলোর সংকেত শনাক্ত করা হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

আইসকিউব প্রকল্পের ধারণা নিয়ে হ্যালজেন কাজ শুরু করেন ১৯৮০-এর দশকে। পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বে এই পর্যবেক্ষণকেন্দ্র গড়ে ওঠে এবং ২০১০ সাল থেকে এর বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পটি পরবর্তীতে উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো শনাক্তের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

নোবেল কমিটির স্বীকৃতিতে মূলত দুটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি গড়ে তোলায় হ্যালজেনের অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার। তার গবেষণা নিউট্রিনোকে ব্যবহার করে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের নতুন একটি পথ তৈরি করেছে।

এ বছরের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ফ্রান্সিস হ্যালজেনের দীর্ঘদিনের নিউট্রিনো গবেষণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি পেল। দক্ষিণ মেরুর বরফের নিচে নির্মিত আইসকিউব অবজারভেটরিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এই গবেষণা মহাজাগতিক উৎস ও উচ্চশক্তির কণা সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জ্ঞান আরও বিস্তৃত করেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19014 ,   Print Date & Time: Tuesday, 6 October 2026, 12:54:31 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh