• হোম > আইন আদালত > মিরপুরে পোশাককর্মী সায়মন হত্যা, তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

মিরপুরে পোশাককর্মী সায়মন হত্যা, তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

  • মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৫
  • ২৫

---

 

ইবি রিপোর্ট

রাজধানীর মিরপুরে ছিনতাইয়ের পর পোশাককর্মী সায়মনকে হত্যার মামলায় চার বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলায় তিন আসামি মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চোরাই মোবাইল কেনার দায়ে সুজন নামে আরেক আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পলাতক সুজনের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, সায়মন মিরপুর-১ এলাকার সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর বেতন পাওয়ার পর সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর-১ এলাকায় কেনাকাটা করতে যান তিনি।

রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে তিন ছিনতাইকারী তাকে থামায়। তাদের একজন সায়মনকে তার ছোট ভাইকে মারধরের অভিযোগ তুলে ভয় দেখায়। পরে ‘কথা আছে’ বলে তাকে রিকশায় তুলে নেওয়া হয়। রিকশাটি দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এলাকার কাঁচাবাজারের সামনে পৌঁছালে সায়মনের সহকর্মী রিফাতকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সায়মনকে স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যায় তারা।

সেখানে ছুরি দেখিয়ে সায়মনের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন দিতে বলে ছিনতাইকারীরা। তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। সায়মনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ দারুস সালাম থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। তদন্তে পুলিশ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইকবাল ও মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে সায়মনের মোবাইল সুজনের কাছে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করার তথ্য পাওয়া যায়। ইউসুফের কাছ থেকে মোবাইল বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক সোহান আহমেদ ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদীর বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল নিজের কাছে রাখার অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০২৩ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19001 ,   Print Date & Time: Tuesday, 6 October 2026, 11:52:54 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh