![]()
ইবি রিপোর্ট
স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে সরকার। এর ফলে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর জন্য সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।
সোমবার (৫ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পুঁজিবাজার-১ শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পুঁজিবাজার-১ শাখার উপসচিব মো. মামুন রশীদ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সরাসরি তালিকাভুক্তির ওপর আগে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের একটি পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি স্মারকের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সাধারণত কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে নতুন শেয়ার বিক্রি করে। অন্যদিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারে। ফলে নতুন করে আইপিও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না গিয়েও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নতুন চিঠিতে সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানিগুলোকে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। এতে মূলত ২০২০ সালে আরোপ করা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। ফলে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ করতে হবে।
সরাসরি তালিকাভুক্তির নতুন বিধিমালার খসড়া
সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সিকিউরিটিজের সরাসরি তালিকাভুক্তি) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আইপিও ছাড়াই কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন শেয়ারের ১০ থেকে ২০ শতাংশ বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে পারবে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ওয়েবসাইটেও বর্তমানে ‘ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়াটির ওপর মতামত দেওয়ার সময়সীমা ছিল গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে ২০২০ সালে আরোপ করা বিধিনিষেধ আর থাকছে না। এখন এ ধরনের তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর বাস্তব প্রয়োগই হবে মূল বিষয়।