• হোম > অর্থনীতি | ব্যাংক > ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় কমেছে ২৩ শতাংশ, শীর্ষে ঢাকা ব্যাংক

ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় কমেছে ২৩ শতাংশ, শীর্ষে ঢাকা ব্যাংক

  • মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২৬
  • ১৬

---

 

ইবি রিপোর্ট

দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে চলতি বছরে এ খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যাংকগুলো সিএসআর খাতে ১১৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৩১ কোটি টাকা বা ২৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব এখনো অনেক ব্যাংক পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর ফলে আগে সিএসআর ব্যয়ে এগিয়ে থাকা কয়েকটি ব্যাংক বর্তমানে লোকসানে রয়েছে অথবা মুনাফায় বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। কোনো কোনো ব্যাংক আবার মুনাফা কমে যাওয়ার কারণে সিএসআর ব্যয়ও কমিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক নিট লোকসানে থাকলে সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করতে পারে না। নিয়ম অনুযায়ী, একটি ব্যাংক ১০০ টাকা সিএসআর ব্যয় করলে এর ৬০ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—দুই খাতেই ৩০ শতাংশ করে বরাদ্দ থাকে।

এ ছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০ শতাংশ এবং আয়-উৎসারী কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ অন্যান্য খাতে বাকি ২০ শতাংশ ব্যয়ের সুযোগ রয়েছে।

দেশের ব্যাংকগুলো ২০১৫ সালে সিএসআর খাতে ৫২৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল। ২০১৬ সালে তা কমে ৪৯৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এরপর ২০১৭ সালে ব্যয় বেড়ে ৭৪৪ কোটি টাকা এবং ২০১৮ সালে ৯০৫ কোটি টাকা হয়।

২০১৯ সালে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় ছিল ৬৪৮ কোটি টাকা। ২০২০ সালে তা বেড়ে ৯৬৮ কোটি এবং ২০২১ সালে ৭৫৯ কোটি টাকা হয়। ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে এই ব্যয় কমতে থাকে। ২০২৩ সালে ৯২৪ কোটি, ২০২৪ সালে ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ এবং ২০২৫ সালে মাত্র ৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করে ব্যাংকগুলো।

চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সিএসআর খাতে ব্যয় হয়েছে ১১৯ কোটি টাকা। এর আগের ছয় মাসে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলো এই খাতে ১৯৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে সিএসআর ব্যয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা ব্যাংক। ছয় মাসে ব্যাংকটি ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।

ঢাকা ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়ের বড় অংশ গেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সামাজিক উন্নয়ন খাতে। শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতেই ব্যাংকটি ব্যয় করেছে ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে ২ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৭৯ লাখ এবং শিক্ষা খাতে ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। ব্যাংকটির সিএসআর ব্যয় ১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজন খাতে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক স্বাস্থ্য খাতে ২ কোটি ৯৪ লাখ, শিক্ষা খাতে ১ কোটি ৯১ লাখ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এ ছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নে ২১ লাখ এবং অন্যান্য খাতে ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।

সিএসআর ব্যয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। আলোচ্য ছয় মাসে ব্যাংকটি ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।

ব্যাংকটির সিএসআর বাজেটের বড় অংশ গেছে দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে ৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে ব্যাংকটি। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে ২ কোটি ৩১ লাখ, স্বাস্থ্য খাতে ৮৬ লাখ, অবকাঠামো উন্নয়নে ১৩ লাখ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ব্যয়ের বড় অংশ গেছে শীতের কম্বলের পেছনে। এ ছাড়া আমরা শিক্ষার্থীদের বছরজুড়ে বৃত্তি দিয়ে থাকি। বৃত্তিপ্রাপ্তদের জন্য পুরো শিক্ষাজীবনের খরচ দিয়ে থাকি। এ জন্য আমাদের পুরো বছরই খরচ করতে হয়। এই ব্যয় দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছে।’

সিএসআর ব্যয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। ব্যাংকটি ব্যয় করেছে ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এ ছাড়া পূবালী ব্যাংক ৮ কোটি ৬৭ লাখ, ট্রাস্ট ব্যাংক ৮ কোটি ৪৩ লাখ, যমুনা ব্যাংক ৮ কোটি ৭ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংক ৭ কোটি ৪১ লাখ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ৬ কোটি ৩৮ লাখ এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৬ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।

আলোচ্য ছয় মাসে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে। এসব খাতে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

এর পরের অবস্থানে রয়েছে স্বাস্থ্য খাত। এই খাতে ব্যাংকগুলো ব্যয় করেছে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আর শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব কিছু সিএসআর কার্যক্রম রয়েছে। কোনো ব্যাংক হাসপাতাল, কোনো ব্যাংক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষার্থীদের বৃত্তিতে অর্থ ব্যয় করে। আবার কেউ ক্রীড়া খাতেও বছরজুড়ে ব্যয় করে থাকে।

এর বাইরে দেশের বড় কোনো আয়োজন হলে সেখানেও ব্যাংকগুলোকে অর্থায়ন করতে হয়। চলতি বছরও বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের কার্যক্রম ছিল বলে কর্মকর্তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে ব্যাংকগুলোর মুনাফা ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর সিএসআর ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করছে। ফলে চলতি বছরে ব্যাংক খাতে সিএসআর ব্যয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি কোন ব্যাংক কোন সামাজিক খাতে কতটা ব্যয় করছে, সেটিও আলোচনায় এসেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18968 ,   Print Date & Time: Tuesday, 6 October 2026, 09:36:39 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh