• হোম > বিদেশ | বিশ্ব সংবাদ > পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই বন কাটার অভিযোগ গুগলের বিরুদ্ধে

পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই বন কাটার অভিযোগ গুগলের বিরুদ্ধে

  • সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২৪
  • ২৬

---

 

ইবি রিপোর্ট

উত্তর ফিনল্যান্ডের মুহোস এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণকে কেন্দ্র করে গুগলের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে বন উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে। ফিনিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর নেচার কনজারভেশনের দাবি, ৩০০ হেক্টরের বেশি বন কেটে ফেলা হয়েছে, যা প্রায় ৪২০টি ফুটবল মাঠের সমান। প্রয়োজনীয় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) সম্পন্ন হওয়ার আগেই এভাবে বন পরিষ্কার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন তদন্ত করছে দেশটির তদারকি সংস্থা ফিনিশ সুপারভাইজরি এজেন্সি (এলভিভি)।

গুগলের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান ‘তুইকে ফিনল্যান্ড’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগটি করেছে ফিনিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর নেচার কনজারভেশন। সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন হান্না হালমিনপা বন উজাড় হওয়া এলাকায় দাঁড়িয়ে এএফপিকে বলেন, প্রকল্পটি আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণস্থলের কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত।

তিনি আরও বলেন, স্যাটেলাইট চিত্রে এমন কিছু এলাকায় গাছ কাটার বিষয় দেখা গেছে, যেগুলো প্রাকৃতিক এলাকা হিসেবে সংরক্ষণ করার কথা ছিল। সংগঠনটির হিসাবে কেটে ফেলা বনভূমির পরিমাণ ৩০০ হেক্টরের বেশি।

তবে গুগল অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বন আইনের প্রয়োজনীয়তা মেনেই গাছ কাটার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি এলভিভির পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। ফিনল্যান্ডে গুগলের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক সন্ড্রে রোনান্ডার বলেন, জমি বিন্যাস ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুরো এলাকায় বিস্তারিত প্রাকৃতিক জরিপ করা হয়েছে। বন ব্যবস্থাপনার সময় মূল্যবান প্রাকৃতিক অঞ্চলগুলো সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই এসব জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গুগলের ফিনল্যান্ড সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মুহোসে ডেটা সেন্টার নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ফিনল্যান্ডে ডেটা সেন্টার ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোয় ১৩ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। মুহোসের পাশাপাশি কাজানি, ভালা ও হামিনাতেও কার্যক্রম রয়েছে বা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মুহোস পৌরসভায় গুগলের অধিগ্রহণ করা জমিতে ভারী যন্ত্র দিয়ে ভূমি পরিষ্কারের কাজ চলছে। প্রধান বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের পাশের নির্মাণ এলাকায় নিয়মিত ট্রাক চলাচলও দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষক ৩৬ বছর বয়সী জোনি পিতকানেন প্রকল্পটির ব্যাপকতা নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, এটি এত বড় যে কাছাকাছি বসবাস করেও এর পরিসর পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন।

প্রায় ৮ হাজার ৮০০ জনসংখ্যার মুহোসে গুগলের বিনিয়োগকে স্থানীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পিতকানেন। তবে জ্বালানি ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে। পৌর মেয়র কিম্মো হিনোও প্রকল্পটির ব্যাপকতা তুলে ধরে বলেন, গুগলের এই ‘বিশাল বিনিয়োগ’ তাকে ব্যস্ত রেখেছে। তার মতে, এটি পুরো পৌরসভা এবং ওউলু অঞ্চলের চিত্র বদলে দেবে। নির্মাণকাজে বিভিন্ন দেশ থেকে ‘হাজার হাজার শ্রমিক’ আসবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ফিনল্যান্ডে ডেটা সেন্টার স্থাপনে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আগ্রহের পেছনে দেশটির ঠান্ডা আবহাওয়া, পরমাণু বিদ্যুৎ, বায়ু ও জলবিদ্যুৎ থেকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ অন্যতম কারণ। গুগল ছাড়াও মাইক্রোসফট ও টিকটকের মতো প্রতিষ্ঠান দেশটিতে ডেটা সেন্টার স্থাপন বা সম্প্রসারণ করছে।

তবে বিদ্যুৎনির্ভর এসব ডেটা সেন্টার নিয়ে দেশটিতে পরিবেশ ও জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা, ভবিষ্যতে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিভিন্ন পক্ষ।

ডেটা সেন্টারের বাড়তি জ্বালানি ব্যবহার এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর বিধিমালার দাবিতে একটি নাগরিক আবেদনে মাত্র তিন দিনে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। এদিকে এলভিভি জানিয়েছে, মুহোস ও কাজানির প্রকল্প নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং গুগল আইন লঙ্ঘন করেছে কি না সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18934 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 12:04:21 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh