• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > বন্ডেড গুদামে কাঁচামালের বড় ঘাটতি, তদন্তে কাস্টমস

বন্ডেড গুদামে কাঁচামালের বড় ঘাটতি, তদন্তে কাস্টমস

  • সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৫২
  • ২৯

---

 

ইবি রিপোর্ট

বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের কাঁচামালের হিসাব নিয়ে বড় ধরনের অসংগতি পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত জ্যাস অ্যাকসেসরিজ বিডি লিমিটেডের বন্ডেড গুদামে নথিতে থাকা মজুতের তুলনায় বাস্তবে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামাল কম পাওয়া গেছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সিআইআইডির কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির বন্ডেড ওয়্যারহাউসে অভিযান চালিয়ে অনলাইন নথিতে উল্লেখ করা কাঁচামালের পরিমাণের সঙ্গে সরেজমিনের মজুত মিলিয়ে দেখেন। এ সময় নথি ও বাস্তব মজুদের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য ধরা পড়ে।

এনবিআর জানিয়েছে, অনলাইন ইউপি বা কাঁচামাল ব্যবহারের অনুমতিসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী জ্যাস অ্যাকসেসরিজের বন্ডেড ওয়্যারহাউসে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা ছিল। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে গুদামে পাওয়া যায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি।

অর্থাৎ নথিতে মজুত দেখানো থাকলেও বাস্তবে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামাল পাওয়া যায়নি। পরিমাণের হিসাবে এই ঘাটতি প্রায় ১৩ দশমিক ৩৫ লাখ কেজি।

প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধার আওতায় বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করে। এর মধ্যে রয়েছে এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড এবং রাবার থ্রেড ইয়ার্ন।

সর্বশেষ আমদানিকৃত বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, গুদামে পাওয়া না যাওয়া কাঁচামালের মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা।

এসব কাঁচামালের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট শুল্ক ও করের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা।

বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা এত বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল বাস্তবে না পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

সিআইআইডি এখন যাচাই করছে, নথিতে থাকা কাঁচামালগুলো অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না। পাশাপাশি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে কাঁচামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এ জন্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট নথি, আমদানি তথ্য, কাঁচামাল ব্যবহারের হিসাব ও গুদামের মজুত পরিস্থিতি আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে।

এনবিআর জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় দলিলপত্র পরীক্ষা শেষে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18914 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 10:47:40 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh