• হোম > বিদেশ > পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ফ্রান্সে স্কুল বন্ধ ঘোষণা

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ফ্রান্সে স্কুল বন্ধ ঘোষণা

  • সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:২৪
  • ১৮

---

 

ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্রান্সে সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুল আংশিক অথবা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে রোববার (৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় এখনো নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি, সেসব স্কুলে সোমবার পাঠদান পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে স্থগিত থাকবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধীরে ধীরে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসির।

জেফ্রে জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ফ্রান্সের ২৪টি স্কুলে অগ্নিসংযোগ অথবা বড় ধরনের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার কারণে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

গত সপ্তাহে শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শুরুতে রাজধানী প্যারিসকেন্দ্রিক থাকলেও পরে আন্দোলন মনপেলিয়ে, নঁত, মার্সেইসহ দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও তাদের সমর্থকদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নেই। এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন নিয়েও তাদের অসন্তোষ রয়েছে।

ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন শুক্রবার জানিয়েছিলেন, সহিংস বিক্ষোভের কারণে দেশটির মোট ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, চলমান বিক্ষোভে শিক্ষা বিভাগের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তার দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ থাকা স্কুলের সংখ্যা শুক্রবারের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে এবং আংশিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

বিক্ষোভের সহিংসতা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী রাজনৈতিক অভিযোগও তুলেছেন। তার দাবি, ‘উগ্র বামপন্থি কিছু কর্মী’ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্ত হয়ে সেটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং চরম সহিংসতার দিকে নিয়ে গেছে।

জেফ্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শুধু শুক্রবারই দেশজুড়ে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ফ্রান্সজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এদিকে আন্দোলনের আয়োজকেরা মঙ্গলবারও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনের পর সরকার এখনো ‘কংক্রিট কোনো পদক্ষেপ’ নেয়নি।

রোববার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বলেন, উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা বিভাগের কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার আরও পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ক্লাস চালু রাখা, স্কুলের অবকাঠামো উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্ল্যাটফর্মকে আরও স্বচ্ছ করা।

এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত ‘ভ্যান্ডাল-পে’ বিলের পর্যালোচনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ক্ষতি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই সেই ক্ষতির ব্যয় বহন করতে হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18910 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 10:04:05 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh