• হোম > জাতীয় | প্রধানমন্ত্রী | বাংলাদেশ > সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই নগরায়ণে জোর

সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই নগরায়ণে জোর

  • সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৩৭
  • ১৪

---

 

ইবি রিপোর্ট

পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এমন নগর গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা করতেও সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশ্ব বসতি দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য কেবল একটি ঘর বা আবাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন ও সড়কব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোও সরাসরি যুক্ত।

তারেক রহমান বলেন, মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ পরিবেশসহ এসব মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে বেশি চ্যালেঞ্জের। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের জন্য শুধু একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সেই আবাসনকে নিরাপদ, টেকসই ও বসবাসযোগ্য করাও এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শহর, বন্দর ও নগরগুলোতে মানুষের বসতি ক্রমেই বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য শহরেও প্রায় একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় শহরাঞ্চলে কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাসের কারণে নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।

এই বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণার বাস্তবায়ন জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। শহরে বসবাসকারী সব শ্রেণির মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ এবং মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন বাসস্থান নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থানের সুযোগ তৈরি করা সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে বলে জানান তিনি।

শহরাঞ্চলে মানুষের ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতেও সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের শহরগুলোর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দেশের নগর ও আবাসন ব্যবস্থাকে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য বাসযোগ্য ও টেকসই নগর গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18894 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 09:35:01 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh