• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে | পুঁজিবাজার > ভারতের পুঁজিবাজারে বড় পতন, কমল ৯ লাখ কোটি রুপি

ভারতের পুঁজিবাজারে বড় পতন, কমল ৯ লাখ কোটি রুপি

  • শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫৮
  • ৭

---

ইবি রিপোর্ট

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রির মধ্যে বৃহস্পতিবার বড় দরপতনের মুখে পড়েছে ভারতের পুঁজিবাজার। দিনের লেনদেনে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) প্রধান সূচক সেনসেক্স এক পর্যায়ে ১ হাজার পয়েন্টের বেশি কমে যায়। একই সময়ে নিফটি ২২ হাজার ৩০০ পয়েন্টের নিচে নেমে আসে।

বিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজার মূলধনও দ্রুত কমেছে। দিনের শুরুতে এসব কোম্পানির সম্মিলিত বাজার মূলধন ছিল ৪৭১ লাখ ৮৬ হাজার ২৯২ কোটি রুপি। বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে তা নেমে আসে ৪৬২ লাখ ৭১ হাজার ৫৪৫ কোটি রুপিতে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৯ লাখ কোটি রুপি।

বাজারে চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) বিক্রি বড় ভূমিকা রাখছে। ৩০ সেপ্টেম্বর একদিনেই এফআইআইগুলো ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করেছে ১০ হাজার কোটি রুপির বেশি। এর আগের দুই দিনে তাদের সম্মিলিত বিক্রির পরিমাণ ছিল ২০ হাজার কোটি রুপির বেশি।

বাজারে চাপ তৈরির আরেকটি কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের সুদহার বৃদ্ধি। দেশটির ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ ৫ দশমিক ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট আয়ের সম্পদের আকর্ষণ বাড়ছে। এর ফলে ভারতের মতো উদীয়মান বাজারের তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে আগ্রহ কমতে পারে।

একই সঙ্গে ভারতীয় রুপির দুর্বলতাও বাজারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৯৬-এর নিচে নেমে যায়। রুপির দর কমলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারে হিসাব করা ভারতীয় শেয়ারের মুনাফা তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হতে পারে।

তেলের বাজারের অনিশ্চয়তাও ভারতের অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় জ্বালানির দামের অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ভারত তেলের চাহিদার বড় অংশ আমদানি করে। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে দেশটির অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। এর সঙ্গে বাজারে অস্থিরতাও বেড়েছে। শেয়ারবাজারের অস্থিরতা পরিমাপের সূচক ইন্ডিয়া ভিআইএক্সও দরপতনের সঙ্গে বেড়েছে।

তবে সেনসেক্সের বড় পতন ভারতের সব ধরনের শেয়ারে একই মাত্রার দরপতন হয়েছে—এমন নয়। ০২১ ট্রেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঈশান লাজারাস বলেন, নিফটি ৫০ পুরো বাজারের চিত্র তুলে ধরে না। কারণ অনেক খুচরা বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ বর্তমানে মাঝারি ও ছোট মূলধনের কোম্পানির শেয়ারে বেশি।

ঈশান লাজারাস বলেন, নিফটি ৫০ বাজারের কেবল একটি অংশের চিত্র দেখায়। নিফটি মিডস্মল ৪০০ সূচক এখনও সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ নিচে রয়েছে। গত পাঁচ বছরে নিয়মিত বিনিয়োগের অর্থ বড় কোম্পানির শেয়ার থেকে মাঝারি ও ছোট মূলধনের শেয়ারে ধীরে ধীরে সরে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, ২০২০ সালের শেষ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) নিবন্ধিত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা তিন গুণের বেশি হয়েছে। শক্তিশালী বাজারে যারা বছরে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রিটার্ন পেতে অভ্যস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে এক অঙ্কের রিটার্ন হতাশাজনক মনে হতে পারে।

তবে তাৎক্ষণিক চাপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছেন ঈশান লাজারাস। তার মতে, বাজারে দরপতন হয়েছে বলেই শেয়ারকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18764 ,   Print Date & Time: Friday, 2 October 2026, 01:54:26 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh