
স্টাফ রিপোর্টার
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন সেবা সহজে পৌঁছে দিতে নতুন কার্যালয় চালু করেছে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। বাসিন্দাদের অভিযোগ গ্রহণ, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিভিন্ন জরুরি সেবা সমন্বয়ের পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্স, জরুরি ওষুধ সরবরাহ, প্লাম্বিং ও ইলেকট্রিশিয়ান সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। ভবিষ্যতে এসব সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সোসাইটির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের বিষয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সোসাইটি বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে অ্যাম্বুল্যান্স সেবা চালু করা হয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে বাসিন্দারা এ সেবা নিতে পারবেন।
তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনে অনেক সময় বাসিন্দাদের দ্রুত ওষুধ সংগ্রহ করতে সমস্যা হয়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাসিন্দাদের বাসায় জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ওষুধ দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বক্তব্য অনুযায়ী, এই সেবা আগামী সপ্তাহ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
বাসিন্দাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিষয়টিও নতুন সেবা কার্যক্রমে রাখা হয়েছে। সোসাইটির মহাসচিব ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ এহসান রেজা জানান, অ্যাম্বুল্যান্স ও জরুরি ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি ইউটিলিটি সেবার আওতায় প্লাম্বিং ও ইলেকট্রিশিয়ান সেবা চালু করা হয়েছে। এসব সেবা পাওয়ার জন্য একটি কল সেন্টারও চালু করা হয়েছে।
শেখ এহসান রেজা বলেন, বাসিন্দাদের কল্যাণ এবং তাদের জন্য সেবার মান উন্নয়নই বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অন্যতম লক্ষ্য। নতুন কার্যালয়ের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। বাসিন্দাদের বিভিন্ন অভিযোগ ও সেবাসংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও কার্যালয়টি ভূমিকা রাখবে।
আবাসিক এলাকায় বসবাসের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় বাসিন্দাদের। এর মধ্যে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, ওষুধ সংগ্রহ এবং বাসাবাড়ির বিভিন্ন কারিগরি সমস্যা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আলাদা আলাদাভাবে সেবা খোঁজার পরিবর্তে সংগঠনের মাধ্যমে সমন্বিত সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোসাইটির মহাসচিব বলেন, একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী আবাসিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সোসাইটি কাজ করে যাবে। পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
নতুন কার্যালয়ের আরেকটি লক্ষ্য হচ্ছে বাসিন্দাদের অভিযোগ ও সেবাসংক্রান্ত বিষয় দ্রুত গ্রহণ করা। সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো সমস্যা বা অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বাসিন্দাদের সঙ্গে সোসাইটির যোগাযোগ আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে সোসাইটির সেবা আরও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন শেখ এহসান রেজা। তিনি বলেন, সোসাইটির সব সেবা ধীরে ধীরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন বাসিন্দারা ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে সেবা গ্রহণের জন্য বাসিন্দাদের সরাসরি কার্যালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে অভিযোগ গ্রহণ, সেবার আবেদন এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের প্রক্রিয়াও সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সোসাইটির নির্বাহী সহসভাপতি কাজী দিদার আহম্মেদ, অর্থ সম্পাদক ইমরুল হাসানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন কার্যালয়কে কেন্দ্র করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে বাসিন্দাদের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাসিন্দাদের জন্য সেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।