• হোম > এক্সক্লুসিভ | জাতীয় | প্রধানমন্ত্রী | বাংলাদেশ > উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

  • বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০২
  • ৩২

---

 

ইবি রিপোর্ট

ফেনীতে মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে দেশের স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে, যাতে উপজেলা পর্যায়েই মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরামে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে উপজেলা পর্যায়েই মানুষের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য যাতে মানুষকে জেলা সদর কিংবা রাজধানী ঢাকায় ছুটতে না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে যেসব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০টি শয্যা রয়েছে, সেগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে এর সুফল পুরো পরিবারে ছড়িয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্যম কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন তারেক রহমান। এ ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি এবং নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটানো।

ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুহুরী ও কহুয়া নদীর পাশাপাশি বিভিন্ন খালকে সংযুক্ত করে খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো বন্যা, জলাবদ্ধতা ও কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা কমানো এবং মানুষের পানির সুবিধা বাড়ানো।

তারেক রহমান বলেন, কয়েক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় এ এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। এমনকি সেতুর ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। এ ধরনের অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না।

বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় নদী-খাল খননের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন, মানুষের পানির সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বন্যার ক্ষতি কমাতে নদী-খাল পুনঃখনন গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে বিএনপি নদী-খাল খননের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের জন্য নেওয়া কর্মসূচি, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং মানুষের সুবিধার জন্য নদী-খাল খনন—সব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে উপকৃত করা।

তিনি বলেন, বিএনপি মানুষের জন্য রাজনীতি করে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়। সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ও তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সমাবেশে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরে ভোটের অধিকার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলায় বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, এখন গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকানো উচিত। নিজেদের সময়ে নারীদের জন্য এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কী করা হয়েছে, তার হিসাবও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠারও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতে দেশে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। বিএনপি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

একই সঙ্গে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল চৌধুরী মিন্টু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনুসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18738 ,   Print Date & Time: Thursday, 1 October 2026, 12:36:58 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh