
ইবি রিপোর্ট
ফেনীর পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, দলটির নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ১৯৭১ সালের মতো একই ধরনের কর্মকাণ্ডে ফিরে গেছে এবং মা-বোনদের সম্মানহানি ও হত্যার মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে বলে তিনি মনে করেন। বিএনপির নেতা-কর্মী ও উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে ওই দলের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে জনগণের সামনে বিষয়গুলো তুলে ধরার।
তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ড শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। অথচ তারা অন্যদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে বেড়াচ্ছে। জনগণকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে হলে ১৯৭১ ও ১৯৮৬ সালে ওই রাজনৈতিক দলের ভূমিকা কী ছিল, তা আবারও মানুষের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি জনবহুল দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছেন। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে তিনি মনে করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলে এর দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে অরাজকতা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘দল যার তার, দেশটা সবার।’ গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উন্নয়নের পাশাপাশি অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধেও জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই সময়ে জনগণের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল এবং তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করে সেই অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ফেনী সফরের অংশ হিসেবে এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসনের প্রথম পর্যায়ের কাজ উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটি ফেনী জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও প্রকল্পটির ব্যয় ও ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী কর্মসূচির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি অরাজকতা ও অপপ্রচারের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার জন্য জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের কর্মসূচি শেষে ফুলগাজীতেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে উন্নয়ন প্রকল্প, সৌরবিদ্যুৎ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের রাজনৈতিক অংশগুলো তার নিজস্ব বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা পক্ষের পাল্টা বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের মধ্যে নেই।