• হোম > জাতীয় | নির্বাচন | বাংলাদেশ > জানুয়ারি-জুনে ইউপি নির্বাচন, প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে ইসি

জানুয়ারি-জুনে ইউপি নির্বাচন, প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে ইসি

  • বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০৮
  • ২০

---

 

ইবি রিপোর্ট

আগামী জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এখনো নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ইসি সচিব জানান, ইউপি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে শুধু সম্ভাব্য সময়সীমা বিবেচনা করলেই হবে না, দেশের স্থানীয় সামাজিক বাস্তবতাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষা, পবিত্র রমজান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি সুসংহত ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে কমিশন।

তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভোটারদের অংশগ্রহণ, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যাতে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকেও নজর দেওয়া হবে।

আখতার আহমেদ জানান, ইউএনডিপির ‘ব্যালট’ প্রকল্পের আওতায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, পুলিশ বাহিনী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রস্তাব নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে অপতথ্য, ভুল তথ্য বা ডিসইনফরমেশন এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা হেইট স্পিচ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্ষমতা বাড়ানো। এর মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশে তথ্যের সঠিকতা ও দায়িত্বশীল যোগাযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ইসি সচিব স্পষ্ট করেন, প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি কোনো একক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেওয়া হচ্ছে না। এটি একটি স্বাধীন ও ধারাবাহিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ। বর্তমানে উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু এবং কারা এতে অংশ নেবেন, তা চূড়ান্ত করা হবে।

ইউএনডিপির তথ্য অনুযায়ী, ‘ব্যালট’ প্রকল্পটি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যের অখণ্ডতা, নাগরিক ও ভোটার শিক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব ও মতামত উঠে এসেছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি প্রতিটি এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ মূল্যায়ন করেই নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসি সচিব বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার যে উচ্চ মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সেটি ধরে রাখতে এবং আরও উন্নত করতে বদ্ধপরিকর।

ইউপি নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা, সুষ্ঠু পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এর আগে ইউপি নির্বাচন নিয়ে ইসির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সম্ভাব্য সময়সীমা ও ধাপভিত্তিক আয়োজনের কথা বলা হলেও সেগুলো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছিলেন আখতার আহমেদ। ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর বিভিন্ন পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সময়সূচি চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছিল কমিশন।

ফলে আগামী জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার সম্ভাব্য সময়সীমা সামনে থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি, এসএসসি পরীক্ষা, রমজান, ধর্মীয় ও জাতীয় দিবস এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18728 ,   Print Date & Time: Thursday, 1 October 2026, 11:49:26 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh