• হোম > এক্সক্লুসিভ | জাতীয় | দেশজুড়ে | প্রধানমন্ত্রী | ফেনী > ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ সুবিধা বাড়াতে বড় প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ সুবিধা বাড়াতে বড় প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

  • বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪৬
  • ৩০

---

 

ইবি রিপোর্ট

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে খোয়াইঘাট-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সেখানে উপস্থিত স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত ১৬ জুন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা অনুমিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের আওতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসনের কাজ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটির কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীর তীরে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এর আগে জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ফেনীর মানুষের ব্যাপক দুর্ভোগের পর এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের অংশ হিসেবে পরশুরামের কর্মসূচির পর ফুলগাজীতেও একাধিক কার্যক্রম রয়েছে। সেখানে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করার কর্মসূচি রয়েছে।

ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোয় মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের কর্মসূচি রয়েছে।

ফুলগাজীতে মোট ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো ফেনী জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। এছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম ফেনী সফর।

প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী এ সফরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি সহায়তা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।

প্রকল্পটির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নদী ও জলাধার পুনঃখনন, সেচব্যবস্থা পুনর্বাসন এবং নদীতীর সংরক্ষণের কাজ করা হবে। ফলে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পর সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18721 ,   Print Date & Time: Thursday, 1 October 2026, 11:28:56 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh