
ইবি রিপোর্ট
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এর আগে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও চলছে।
ঘটনার পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্যের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমে বলা হয়, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে সামনে এসেছে। তবে মিষ্টি নিজে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আইনগত তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাইয়ের কথা বলেছেন।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও বিতর্কের কথা উঠে এসেছে। প্রথম আলোর অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে তিনি ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সভাপতি ছিলেন এবং ওই সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে করা একটি আবেদনে তাঁর স্বাক্ষর ছিল। তবে মিষ্টি দাবি করেছেন, বর্তমানে তিনি ওই সমিতির সঙ্গে যুক্ত নন।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনাকে ঘিরে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংসদ সদস্য পদ নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনার অবসান ঘটল। পরবর্তী সাংগঠনিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এগোবে।