
ইবি রিপোর্ট
কারিগরি সমীক্ষা শেষ হলে আগামী অর্থবছর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীর দুই পাড়ের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা প্রশাসনের নতুন ভবন উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষার কাজ শেষ করা হবে। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর আগামী অর্থবছর থেকেই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তিস্তা নদীর দুই পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে। এর সুফল প্রায় দুই কোটি মানুষ ভোগ করবেন বলে জানান তিনি।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নয়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পড়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি এখনো রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সরকার কাজ করছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। জনগণ ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
কুড়িগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, জেলার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাও তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।