• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > ভারতের নতুন শুল্কে আরও চাপে বাংলাদেশের পাট খাত

ভারতের নতুন শুল্কে আরও চাপে বাংলাদেশের পাট খাত

  • বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৩৭
  • ১৬

---

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশি পাটপণ্য আমদানিতে নতুন করে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ১৪০ মার্কিন ডলার কাউন্টারভেইলিং ডিউটি বা সিভিডি আরোপের সুপারিশ করেছে ভারত। এর মাত্র চার দিন আগে বাংলাদেশি পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে দেশটি। পরপর দুই ধরনের শুল্কের উদ্যোগে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আরও চাপে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য বিভাগের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (ডিজিটিআর) গত সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটপণ্যে পাঁচ বছরের জন্য সিভিডি আরোপের সুপারিশ করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের।

২০২৫ সালে পরিচালিত তদন্তে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাটপণ্যে ভর্তুকি দেওয়ার ১২টি অভিযোগ তোলে ভারত। তদন্তে বাংলাদেশের ২৪টি পাটকল সহযোগিতা করেছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে তিনটি রপ্তানিকারক গ্রুপে ভাগ করে আলাদা শুল্কহার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিজিটিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতি টনে ১০১ দশমিক ৫৪ থেকে ১৩২ দশমিক ৩৬ ডলার পর্যন্ত শুল্ক হতে পারে। তদন্তে সহযোগিতা করা বাকি ১৮টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১১৬ দশমিক ৪৮ ডলার শুল্কের সুপারিশ করা হয়েছে। আর তদন্তে সহযোগিতা না করা বাংলাদেশের অন্যান্য পাটপণ্য রপ্তানিকারকের ক্ষেত্রে প্রস্তাব করা হয়েছে ১৪০ দশমিক শূন্য ৪ ডলার। নেপালের রপ্তানিকারকদের জন্য প্রস্তাবিত শুল্কহার ৫৪ দশমিক ৭৭ থেকে ৬০ দশমিক ৫৪ ডলার।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ) ভারতের এই উদ্যোগকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছে। সংগঠনটির সভাপতি তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক কার্যকর থাকার পর কীভাবে আবার সিভিডি আরোপ করা যায়, তা আমার মাথায় আসে না। সরকারের উচিত হবে অযৌক্তিক এ উদ্যোগের প্রতিকার চেয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নালিশ করা।’

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশি পাটপণ্য আমদানিতে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে ভারত। এর আগে বাংলাদেশ ও নেপালের পাটের সুতা ও টুইন, হেসিয়ান কাপড় এবং পাটের স্যাকিং ব্যাগে প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক ছিল। পরে বাংলাদেশি পাটের স্যাকিং কাপড়ও এই শুল্কের আওতায় আনা হয়।

শুল্কের প্রভাবে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিও কমেছে। ডিজিটিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০–২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে ১১৬ কোটি ডলার আয় করেছিল। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তা কমে ৮২ কোটি ডলারে নেমে আসে। তবে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রপ্তানি ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘ভারত গায়ের জোরে এগুলো করছে। বাংলাদেশের পাট খাতকে ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে আছে দেশটি। আমি মনে করি, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যথাযথ কোনো প্রতিবাদ করা হয় না বলে একধরনের সুযোগ নিচ্ছে তারা। এ ব্যাপারে সরকার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিক।’

ভারতে রপ্তানি হওয়া পাটপণ্যে ভর্তুকির অভিযোগ এবং সিভিডি আরোপের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতের তদন্তের আইনগত ভিত্তি, ভর্তুকির হিসাব, ক্ষতির তথ্য এবং সম্ভাব্য দ্বৈত প্রতিকারের বিষয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছে ডিজিটিআরের কাছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, পাটপণ্যের ওপর ভারতের অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে। একই পণ্যে আবার ভর্তুকির অভিযোগ তুলে সিভিডি আরোপের উদ্যোগকে ‘ডাবল রেমেডি’ বা একই পরিস্থিতির জন্য দ্বৈত প্রতিকার হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশের পাটপণ্য ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধও রয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে জারি করা বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের পাটপণ্য শুধু নাভা শেভা সমুদ্রবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ভর্তুকি ও প্রতিকারসংক্রান্ত চুক্তির বিভিন্ন ধারা এবং ভারতের কাস্টমস ট্যারিফ আইনের ৯বি ধারার উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, একই পরিস্থিতির জন্য অ্যান্টি–ডাম্পিং ও সিভিডি একসঙ্গে আরোপ করা যায় না। এ কারণে ডিজিটিআরের চলমান সিভিডি তদন্তের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিভিডির তদন্ত থেকে সরে আসতে লিখিতভাবে ভারতকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দিল্লিতে দুই দেশের যৌথ কার্যদলের বৈঠক রয়েছে। সে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে পাটপণ্যে অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ ও সিভিডি আরোপের উদ্যোগের বিষয়টি রেখেছি। আশা করছি, সমাধানের উপায় বের হবে।’


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18678 ,   Print Date & Time: Thursday, 1 October 2026, 01:31:36 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh