• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

  • বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১
  • ২৯

---

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে চীনের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাক্ষাতের বিষয়টি জানান। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও একই তথ্য উঠে এসেছে।

সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সংকট সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে চীনের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, হালকা প্রকৌশল, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তির মতো সম্ভাবনাময় খাতের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষাতে কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুপক্ষীয় আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চলমান আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহ ও সহযোগিতার বিষয়টি এর আগেও আলোচনায় এসেছে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ইয়াও ওয়েনের অবদানের জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।

এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রপতি।

এ ছাড়া জনগণের জন্য উন্মুক্ত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জটিল ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চান তিনি। এ বিষয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18660 ,   Print Date & Time: Thursday, 1 October 2026, 08:04:46 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh