• হোম > বাণিজ্য > বাংলাদেশে কফির বাজারে বড় উল্লম্ফন, এক বছরে আমদানি বেড়েছে ৪৫ শতাংশ

বাংলাদেশে কফির বাজারে বড় উল্লম্ফন, এক বছরে আমদানি বেড়েছে ৪৫ শতাংশ

  • বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪১
  • ১৪

---

ইবি রিপোর্ট

এক দশক আগেও দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে কফি মানেই ছিল গরম পানিতে গুলিয়ে খাওয়া ইনস্ট্যান্ট কফি। সময়ের সঙ্গে সেই চিত্রে এসেছে বড় পরিবর্তন। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে কফি শপের বিস্তার, নতুন নতুন কফির ধরন এবং তরুণ প্রজন্মের ভিন্ন স্বাদের প্রতি আগ্রহের কারণে দেশে কফির ব্যবহার ও বাজার—দুটিই বাড়ছে।

ক্যাপাচিনো, লাতে, মকা কিংবা আমেরিকানোর মতো কফি এখন অনেকের কাছেই পরিচিত। শুধু কফি শপ নয়, সুপারশপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কফি। ফলে দেশের কফির বাজারে ধীরে ধীরে বৈচিত্র্য বাড়ার পাশাপাশি আমদানির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আমদানি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশে ১ হাজার ৯৬৭ টন কফি আমদানি হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৫ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কফি আমদানি বেড়েছে ৬১২ টন, যা প্রায় ৪৫ শতাংশ।

আজ ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কফি দিবস। এ উপলক্ষে গত পাঁচ বছরের আমদানি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাঝখানে টানা তিন বছর কফি আমদানি কমলেও সর্বশেষ অর্থবছরে তা বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরেই দেশে সবচেয়ে বেশি কফি আমদানি হয়েছে।

এনবিআরের তথ্য বলছে, ২০২১–২২ অর্থবছরে দেশে কফি আমদানি হয়েছিল ১ হাজার ৭৬৭ টন। পরের অর্থবছরে সামান্য কমে তা দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৩২ টনে।

এরপর কফি আমদানিতে ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে আমদানি হয় ১ হাজার ৪৩৯ টন। পরের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৪–২৫ সালে তা আরও কমে ১ হাজার ৩৫৫ টনে নেমে আসে।

তবে সেখান থেকে সর্বশেষ অর্থবছরে আমদানিতে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কফি আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬৭ টনে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ বৃদ্ধি প্রায় ৪৫ শতাংশ। এমনকি ২০২১–২২ অর্থবছরের তুলনায়ও সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ২০০ টন বেশি কফি দেশে এসেছে।

তবে শুধু আমদানির পরিমাণ দিয়ে দেশের কফির বাজারের আর্থিক আকার নির্ধারণ করা যায় না। বাজারমূল্য, ব্র্যান্ড, বিক্রয়মূল্য এবং দেশে কফি প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিমাণের মতো বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত। তারপরও আমদানির সর্বশেষ এই বড় উল্লম্ফন দেশে কফির ব্যবহার ও চাহিদা বাড়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কফির ধরন ও পরিবেশনে বৈচিত্র্য এলেও পরিমাণের হিসাবে দেশের বাজারে এখনো ইনস্ট্যান্ট কফির আধিপত্য রয়েছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে আমদানি করা মোট ১ হাজার ৯৬৭ দশমিক ২০ টন কফির মধ্যে ১ হাজার ৬৬২ টনই ছিল ইনস্ট্যান্ট কফি। অন্যদিকে কফি বিন আমদানি হয়েছে ৩০৫ টন।

অর্থাৎ সর্বশেষ অর্থবছরে দেশে আমদানি হওয়া কফির প্রায় ৮৫ শতাংশ ছিল ইনস্ট্যান্ট কফি। বাকি প্রায় ১৫ শতাংশ ছিল কফি বিন। সহজ হিসাবে, দেশে আমদানি হওয়া প্রতি ১০ কেজি কফির মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ কেজিই ইনস্ট্যান্ট কফি।

অবশ্য আগের অর্থবছরের তুলনায় ইনস্ট্যান্ট কফির অংশ কিছুটা বেড়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোট কফি আমদানির ৮৩ শতাংশ ছিল ইনস্ট্যান্ট কফি এবং ১৭ শতাংশ ছিল কফি বিন। সর্বশেষ অর্থবছরে ইনস্ট্যান্ট কফির অংশ বেড়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি চিত্র অবশ্য কিছুটা ভিন্ন। প্রায় দুই দশক আগে দেশে আমদানি হওয়া কফির প্রায় পুরোটাই ছিল ইনস্ট্যান্ট কফি।

২০০৫–০৬ অর্থবছরে দেশে আমদানি করা মোট কফির প্রায় ৯৮ শতাংশই ছিল ইনস্ট্যান্ট কফি। সে সময় কফি বিনের অংশ ছিল মাত্র ২ শতাংশ।

বর্তমানে সেই চিত্র বদলেছে। কফি শপের সংস্কৃতির বিস্তার এবং বিনভিত্তিক কফির ব্যবহার বাড়ার কারণে কফি বিনের বাজারও ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছে। যদিও সামগ্রিক বাজারে এখনো ইনস্ট্যান্ট কফিই মূল ভরকেন্দ্র।

এনবিআরের আমদানি তথ্য অনুযায়ী, দেশে কফি আমদানিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি নেসক্যাফে ব্র্যান্ডের কফি বাজারজাত করে।

এরপর রয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির কফির ব্র্যান্ড ‘আমা কফি’। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ, যারা ‘কফি হাউস’ ব্র্যান্ডে কফি বাজারজাত করছে। এ ছাড়া মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ ব্র্যান্ডও নতুন করে কফির বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।

শীর্ষ আমদানিকারকদের তালিকায় রয়েছে নর্থ এন্ড প্রাইভেট লিমিটেডও। প্রতিষ্ঠানটি মূলত কফি বিন আমদানি করে দেশে রোস্ট করে নিজস্ব ব্র্যান্ডে বাজারজাত করে। বিশেষ করে কফি শপকেন্দ্রিক বিন কফির বাজার তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি রয়েছে।

শীর্ষ আমদানিকারকদের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমেও দেশের কফির বাজারের দুটি ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে বড় বাজারজুড়ে রয়েছে ইনস্ট্যান্ট কফি। অন্যদিকে তুলনামূলক ছোট হলেও দ্রুত বিকশিত হচ্ছে কফি বিন, রোস্টেড কফি এবং কফি শপকেন্দ্রিক বাজার।

নগরজীবনে কফি শপের সংখ্যা বৃদ্ধি, তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কফির প্রতি আগ্রহ এবং অনলাইন ও সুপারশপে কফির সহজলভ্যতা এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

ফলে দেশে কফির ব্যবহার এখন শুধু ঘরে ইনস্ট্যান্ট কফি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ধীরে ধীরে কফি হয়ে উঠছে শহুরে জীবনযাপন ও সামাজিক যোগাযোগেরও একটি অংশ। আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দেশের কফির বাজার ও আমদানির পরিমাণ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18654 ,   Print Date & Time: Thursday, 1 October 2026, 07:19:55 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh