• হোম > বিনোদন > প্রথম তামিল সিনেমা হিসেবে ১০০০ কোটি রুপি আয়ের সম্ভাবনা ‘জেলার টু’র

প্রথম তামিল সিনেমা হিসেবে ১০০০ কোটি রুপি আয়ের সম্ভাবনা ‘জেলার টু’র

  • বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৪
  • ২৫

---

 

ইবি বিনোদন ডেস্ক

রজনীকান্ত অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জেলার টু’ মুক্তির আগেই বক্স অফিসে বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছে। চলচ্চিত্র বাণিজ্য বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী এক হাজার কোটি রুপি আয় করা প্রথম তামিল সিনেমা হয়ে ইতিহাস গড়তে পারে।

ধানুশ অভিনীত ‘ওএম চ্যাপ্টার ১: উধিরাম—দ্য ব্লাড উড’-এর সঙ্গে মুক্তির সংঘাত এড়াতে পারায় ‘জেলার টু’ এককভাবে ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছে। এর সঙ্গে উৎসবের মৌসুম, রজনীকান্তের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা এবং ভারতের বিভিন্ন চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির তারকাদের উপস্থিতি সিনেমাটিকে ঘিরে প্রত্যাশা আরও বাড়িয়েছে।

তামিল সিনেমার বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় রজনীকান্তের দুটি সিনেমা শীর্ষ তিনে রয়েছে। তার অভিনীত ‘২.০’ বিশ্বব্যাপী ৬৯১ কোটি রুপি আয় করেছে। আর ‘জেলার’ আয় করেছে ৬০৪ কোটি ৫০ লাখ রুপি।

এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে থালাপতি বিজয় অভিনীত ‘লিও’। সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী আয় ৬০৫ কোটি ৯০ লাখ রুপি।

‘জেলার’-এর সিক্যুয়েল হিসেবে ‘জেলার টু’ মুক্তির আগেই তাই বক্স অফিসে বড় অঙ্কের আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রথম সিনেমার জনপ্রিয়তা ও নতুন সিনেমার তারকা সমাবেশ দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ আরও বাড়াতে পারে।

‘জেলার টু’র অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিভিন্ন ভারতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় তারকাদের উপস্থিতিকে। সিনেমাটিতে ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেছেন মালয়ালম সিনেমার মোহনলাল, কন্নড় সিনেমার শিবা রাজকুমার এবং হিন্দি সিনেমার হৃতিক রোশন।

বিশেষ করে হৃতিক রোশনের উপস্থিতি ভারতের উত্তরাঞ্চলের বাজারে সিনেমাটির ব্যবসা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এ ছাড়া বিদ্যা বালান, তামান্না, বিজয় সেতুপতি ও এস জে সূর্যাহসহ বিভিন্ন শিল্পের পরিচিত মুখ সিনেমাটিতে যুক্ত হয়েছেন।

ফলে শুধু তামিলনাড়ু বা দক্ষিণ ভারতের দর্শকদের ওপর নির্ভর না করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে দর্শক টানার সুযোগ তৈরি হয়েছে ‘জেলার টু’র।

চেন্নাইভিত্তিক বক্স অফিস বিশ্লেষক রমেশ বালা মনে করেন, হিন্দি বাজারে সিনেমাটির ভালো প্রচার এবং পর্যাপ্তসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি নিশ্চিত করা গেলে ‘জেলার টু’ এক হাজার কোটি রুপি আয়ের মাইলফলক ছুঁতে পারে।

তার মতে, হৃতিক রোশনের উপস্থিতি হিন্দি বাজারে সিনেমাটির উদ্বোধনী আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। হিন্দি ভাষায় পিভিআর ইনক্সের মতো মাল্টিপ্লেক্স চেইনে সিনেমাটি যথাযথভাবে মুক্তি পেলে রজনীকান্ত ও হৃতিকের সমন্বয় দর্শকদের আকর্ষণ করতে পারে।

তবে এর জন্য সিনেমাটির দর্শকপ্রতিক্রিয়া ভালো হওয়া এবং মাল্টিপ্লেক্সের পাশাপাশি সিঙ্গেল-স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহেও যথাযথভাবে মুক্তি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

প্রযোজক ও পরিবেশক জি ধনঞ্জেয়নও ‘জেলার টু’ নিয়ে আশাবাদী। তার মতে, সিনেমাটিতে এমন কয়েকজন বড় প্যান-ইন্ডিয়া তারকার সমাবেশ ঘটেছে, যাদের একসঙ্গে এর আগে কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি।

হৃতিক রোশন, বিদ্যা বালান, তামান্না, মোহনলাল, শিবা রাজকুমার, বিজয় সেতুপতি ও এস জে সূর্যাহসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রশিল্পের তারকার উপস্থিতিকে তিনি সিনেমাটির বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তামিল সিনেমার অন্যতম বড় হিট ‘জেলার’-এর সিক্যুয়েল হওয়ার বিষয়টি। ফলে বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি।

ধনঞ্জেয়নের মতে, গল্প ও নির্মাণ দর্শকদের ভালো লাগলে ‘জেলার টু’ প্রথম তামিল সিনেমা হিসেবে এক হাজার কোটি রুপি আয়ের মাইলফলক অর্জন করতে পারে।

তবে ‘জেলার টু’ যে নিশ্চিতভাবেই হাজার কোটি রুপি আয় করবে, এমন পূর্বাভাস নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। বিহারের রূপবাণী সিনেমার প্রধান নির্বাহী বিশেক চৌহানের মতে, সিনেমাটির সংগীত প্রথম কিস্তির মতো ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি।

তার মতে, ‘জেলার’-এর ‘হুকুম’ ও ‘কাভালা’র মতো গান দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। সিনেমাটির ব্যবসায়ও এসব গানের প্রভাব ছিল। সেই জায়গা থেকে ‘জেলার টু’র সংগীত নিয়ে একই ধরনের প্রত্যাশা এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করেন তিনি।

তবে চৌহানের ধারণা, তামিলনাড়ু ও দক্ষিণ ভারতের বাজারে মুক্তির প্রথম দুই-তিন দিনে সিনেমাটি বড় ব্যবসা করতে পারে। কিন্তু হিন্দি সংস্করণ মাল্টিপ্লেক্সে পর্যাপ্তভাবে মুক্তি না পেলে উত্তর ভারতের বাজার থেকে প্রত্যাশিত আয় নাও আসতে পারে।

তার মতে, দর্শকপ্রতিক্রিয়া ভালো হলে অবশ্য সিনেমাটি বড় অঙ্কের ব্যবসা করতে পারে। প্রথম লক্ষ্য হিসেবে ‘জেলার’-এর আয়কে ছাড়িয়ে যাওয়াকে দেখা যেতে পারে। এরপর সিনেমাটি কত দূর যেতে পারবে, তা মূলত দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

নেলসন পরিচালিত ‘জেলার টু’ আগামী ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। রজনীকান্তের জনপ্রিয়তা, একাধিক প্যান-ইন্ডিয়া তারকার উপস্থিতি, উৎসবের মৌসুম এবং ‘জেলার’-এর সাফল্য—সব মিলিয়ে সিনেমাটিকে ঘিরে এরই মধ্যে ব্যাপক বক্স অফিস প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত হাজার কোটি রুপির মাইলফলক সিনেমাটি ছুঁতে পারবে কি না, তা নির্ধারণ করবে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া, সিনেমার কনটেন্ট এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এর মুক্তি ও ব্যবসার ধরন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18650 ,   Print Date & Time: Thursday, 1 October 2026, 07:20:15 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh