• হোম > আন্তর্জাতিক | বিদেশ | বিশ্ব সংবাদ > ফ্লাইদুবাই বিমানে পাইলটের হামলার অভিযোগ, ১৮০ যাত্রী নিয়ে সৌদিতে অবতরণ

ফ্লাইদুবাই বিমানে পাইলটের হামলার অভিযোগ, ১৮০ যাত্রী নিয়ে সৌদিতে অবতরণ

  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:০৫
  • ২১

---

 

ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিমানের এক পাইলট ককপিটে থাকা অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটি ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন। পরে ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা শারীরিক সহিংসতায় রূপ নেয়। কয়েকটি প্রতিবেদনে ক্যাপ্টেনকে আমিরাতি এবং ফার্স্ট অফিসারকে ওমানি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অন্য একটি প্রতিবেদনে পাইলটদের রুশ ও ইউক্রেনীয় নাগরিক বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ওঠা অভিযোগ অনুযায়ী, ওমানি কো-পাইলট পকেটে থাকা একটি ছুরি দিয়ে আমিরাতি ক্যাপ্টেনকে আঘাত করেন। একই সঙ্গে তিনি বিমানটি ক্র্যাশ করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট এবং কয়েকজন যাত্রী মিলে হামলাকারীকে কাবু করেন। এরপর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

ঘটনার সময় বিমানের ভেতরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে বিমান থেকে সাধারণ জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ পাঠানো হয়। পরে সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রবেশের পর বিমান থেকে ছিনতাই বা হাইজ্যাকের সংকেত ‘৭৫০০’ পাঠানো হয়।

এরপর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নেমে ১৭ হাজার ফুটে চলে আসে। একপর্যায়ে বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং দেশটির আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জরুরি বৈঠকে বসেন।

ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সামান্যর জন্য একটি ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে এক যাত্রীর শার্ট রক্তে ভেজা অবস্থায় দেখা যায়। বিমানের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে এক নারী যাত্রী বলেন, হঠাৎ চিৎকার শুরু হয়। যাত্রীরা বুঝতে পারছিলেন না ঠিক কী ঘটছে। তাদের মনে হচ্ছিল, বিমানটি হয়তো বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছে অথবা সবাই মারা যেতে পারেন। তার ভাষায়, ঘটনাটি যেন মাঝআকাশে একটি সন্ত্রাসী হামলার মতো ছিল।

আরেক যাত্রী জানান, তারা বিমানের ভেতরে চিৎকার শুনতে পান। পরে ককপিটের দরজা খোলা হলে সেখানে রক্ত দেখতে পান। তখন তারা জানতে পারেন, একজন পাইলটকে পকেটনাইফ দিয়ে জখম করা হয়েছে।

নোয়াম নামের এক নারী যাত্রীও ঘটনার ভয়াবহতার কথা জানান। তিনি বলেন, তারা জানতে পারেন একজন পাইলট ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এরপর বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। পুরো ঘটনাটি তাদের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর ছিল।

ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কো-পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনাটির পেছনে কোনো সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে পাইলটদের নাগরিকত্ব এবং ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18626 ,   Print Date & Time: Wednesday, 30 September 2026, 01:33:15 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh