
ইবি রিপোর্ট
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার চিকিৎসক নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন’ শীর্ষক গণমুখী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে।
একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ১০টি এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ নিজ নিজ এলাকাতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সরকার স্বাস্থ্যখাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এবার সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও নিশ্চিত করতে হবে।
এ লক্ষ্যে চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি নার্স নিয়োগের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
দেশে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, সুস্থ থাকতে হলে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
হৃদরোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে গুরুত্ব দিতে হবে।
হৃদরোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায় থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সেমিনারে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে শুরু থেকেই ঝুঁকির বিষয়গুলো চিহ্নিত করা জরুরি।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও তামাক ব্যবহারের মতো ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গেলে হৃদরোগের প্রকোপ অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে জানান তিনি।
এ জন্য স্বাস্থ্যশিক্ষা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফাজিলা-তুন-নেসা মালিক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন এবং অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম মহাসচিব নওশাদ হোসেন।
বিশ্ব হার্ট দিবসের এই আয়োজন থেকে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।